কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) ফসলের চাষ হচ্ছে। জিএম ফসল কোথাও কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে তা জানা যায়নি। আমাদের অধিক জনসংখ্যার খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় জিএম ফসলের দিকে যেতে হবে। আমরা সাবধানতা অবলম্বন করবো কিন্তু রক্ষণশীলতার বেড়াজালে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করবো না, তা হবে না।
বুধবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটরিয়ামে ফিড দ্যা ফিউচার বায়োটেকনোলজি পটেটো পার্টনারশীপ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমরা আলুর সিঙ্গেল আর-জিন নিয়ে কাজ করেছি। এখন আমরা থ্রি-আর জিন নিয়ে কাজ করবো। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে আলুর একটি নতুন জাত বের করা হলে আলুর মারাত্মক ক্ষতিকর রোগ নাবী ধ্বসা রোগের আক্রমণ ও ক্ষতি থেকে কৃষকরা রক্ষা পাবেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষি সেক্টরে অনেক এগিয়েছে। আলু উৎপাদনে আমরা বিশ্বে সপ্তম এবং এশিয়াতে তৃতীয় অবস্থানে আছি। বর্তমানে আলুতে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের আলু ২৭টি দেশে রপ্তানিও হচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আলু রপ্তানিতে কিছু সমস্যা থাকলেও তা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো।
হাইব্রিড ফসলের বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন আমরা হাইব্রিড চালু করলাম তখন বিভিন্ন মহল থেকে অনেক ঋণাত্মক সমালোচনার সম্মুখীন হই। সেসময় বর্তমান সরকারের সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে এখন আমরা অসময়ে এবং সারা বছর বিভিন্ন ধরণের সবজি পাচ্ছি।
তিনি বলেন, বিজ্ঞানীদের নতুন অবদানের কথা অস্বীকার করে আমরা বসে থাকিনিই আমরা ধানেরও হাইব্রিড উৎপাদন করছি। হাইব্রিড সবজির মতো হাইব্রিড ধান কৃষক গ্রহণ করেছে আগ্রহ সহকারে। প্রচলিত ধানের ফলন যেখানে ৪-৫ টন সেখানে হাইব্রিড ধানের ফলন ১০ টন পর্যন্ত হচ্ছে। আমাদের বিজ্ঞানী ও কৃষকরা অনেক কষ্ট করে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোহাম্মদ নজমুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. ভাগ্য রানী বণিক ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. আবুল কালাম আযাদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ইউএসএইড বাংলাদেশের এফটিএফ প্রোগ্রাম লিডার ডেভিড ওয়েস্টারলিংক বক্তব্য রাখেন। বাসস।
ইত্তেফাক/এমআই
