মাগুরায় সংরক্ষণের অভাবে জেলার ৫টি বধ্যভূমি ধ্বংস হতে চলেছে। এগুলো রক্ষায় কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।
জানা গেছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আরসামসরা মাগুরা শহরে পিটিআই, ঢাকা রোড ব্যারেজ ও পারনান্দুয়ালী ক্যানেলে শত শত মানুষকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখত ও নদীতে ভাসিয়ে দিত। শহরের মাগুরা ঝিনাইদহ সড়কের পাশে অবস্থিত পিটিআইতে ছিল পাকবাহিনীর ক্যাম্প। এখানে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে গণকবর দেওয়া হতো। পিটিআইয়ের প্রবেশপথে শুধুমাত্র একটি ফলক রয়েছে। ঢাকা রোড ব্যারেজ ও পারনান্দুয়ালী ক্যানেলে নবগঙ্গা নদীতে শত শত মানুষকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। শালিখার ছয়ঘরিয়া নামক স্থানে মাগুরা যশোর সড়কের দু’পাশে ১৩ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার গণকবর রয়েছে। রাজাকাররা ফরিদপুরে যাওয়ার পথে এই ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করেছিল। পরে দুটি কবরে এদের গণকবর দেয়। আড়পাড়ার ডাকবাংলোটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীর ক্যাম্প ছিল। নদী পথে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ গেলে তাদের ধরে এনে নির্মম অত্যাচারের পর হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দিত। কথিত আছে বহু মানুষকে হত্যা করে বাংলোর সামনের ইদারায় ফেলে দিত। ইদারাটি বর্তমানে ভরাট হয়ে গেছে। এসব বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংস হতে চলেছে।
ইত্তেফাক/নূহু
