অভিনেতা টেলি সামাদকে এখন পর্দায় দেখা না গেলেও তাকে মনে রেখেছেন দেশের অগণিত মানুষ। তার অনবদ্য অভিনয় আর অসাধারণ সব ভঙ্গিমা এখন অনেকের কাছে গল্পের মতো। কেমন আছেন তিনি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কিছুদিন আগে গিয়েছিলাম তার কাছে।
তিনি বলেন, ‘বাইরেও তেমন যাওয়া হয় না। ঘরে বসেই কেটে যাচ্ছে আমার দিন। আমি ভালো নেই। আশির দশকে আমি দাপিয়ে কাজ করেছি। এখন কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। এখন আমার কথা বলতেও কষ্ট হয়। আমার খবর কেউ এখন রাখে না।’
টেলি সামাদ আরও বলেন, ‘অনেক সময় ধরে কাজ করেছি। এখন করতে পারছি না। একজন মানুষের পক্ষে তো সারাজীবন কাজ করা সম্ভব না। তবে এখনও মনে পড়ে সেই দিনগুলো। আমাদের সময়ে একটা ছবির কাজ শেষ করতে ৬-৮ মাস সময় লাগতো। সবাই কাজকে ভালোবাসতো। যতক্ষণ মনের মতো হয়নি ততোক্ষণ শট দিতে হয়েছে। প্রয়াত বুলবুল ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার একটা স্মৃতি আমার এখনও মনে পড়ে। ওনার একটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমাকে ৯০ বার শট দিতে হয়েছিল। আর এখন শুনি একটি ছবি বানাতে ১ মাসের বেশি লাগে না!
সর্বশেষ কাজ করেছিলাম অনিমেষ আইচের ‘জিরো ডিগ্রি’ ছবিতে। এখন তো ভালো সিনেমার কাজও কমে গেছে। আর আমাদের তো কেউ ডাকে না। এফডিসিতে যেতে খুব ইচ্ছে করে। কিন্তু অসুস্থ থাকার কারণে যাওয়া হয়ে ওঠে না আমার। প্রায় ৬ শতাধিক ছবিতে আমি কাজ করেছি। সময় কত দ্রুত চলে গেল টেরই পেলাম না।’
টেলি সামাদ মূলত কৌতুক অভিনেতা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। এখন চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনয়শিল্পীর সঙ্কট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কৌতুক পরিবেশন কোনো সহজ ব্যাপার না। এটি একটি সৃষ্টিশীল কাজ এবং সবচেয়ে কঠিন। এই কঠিন কাজটি দর্শকদের কাছে সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে হবে। সুতরাং হাস্যরসের সহজাত একটা ক্ষমতা শিল্পীর থাকতে হবে। কিন্তু একটি ছবির কাজ করতে গেলে, সেই চরিত্রে ঢুকতে গেলে সেটা নিয়ে স্টাডি করতে হয়। আমাদের সময় এটা করতাম। কিন্তু এখন কেউ অভিনয় নিয়ে স্টাডি করে না বললেই চলে! সেকারণে অনেকের অভিনয় হয় না।’
ইত্তেফাক/আনিসুর
