মঠবাড়িয়ার সূর্যমণি বধ্যভূমিতে আজও নির্মাণ হয়নি স্মৃতিস্তম্ভ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০২:৩৫

পিরোজপুরের  মঠবাড়িয়ায় মহান মুক্তিযুদ্ধে  উপজেলার আঙ্গুলকাটা গ্রামের ২৫ হিন্দু যুবককে এক দড়িতে বেঁধে গুলি করে হত্যা করা হয়। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও ওই শহীদ বেদীতে গড়ে ওঠেনি স্মৃতিস্তম্ভ। এমনকি বেঁচে যাওয়া আহতরা সরকারি ভাতা পেলেও নিহত ২৫ শহীদদের পরিবার আজও পায়নি স্বীকৃতি। প্রতিবছর সূর্যমণি গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা, ২৫ শহীদ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শোকযাত্রা করে মঠবাড়িয়া শহর থেকে টিকিকাটা ইউনিয়নে সূর্যমণি বেড়ি বাঁধে শহীদ বেদীতে সমবেত হয়ে পুষ্পস্থাপক অর্পণ ও স্মরণ করেন শহীদদের।

শহীদ পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর ভোররাতে মঠবাড়িয়া হিন্দু  অধ্যুষিত আঙ্গুলকাটা গ্রাম থেকে ৩৭ জন নিরপরাধ হিন্দু বাঙালিকে ধরে নিয়ে যায় রাজাকার বাহিনী। এদের মধ্যে সাতজনকে থানায় আটকে রাতভর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। বাকি ৩০ জনকে মঠবাড়িয়া শহর থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে সূর্যমণি বেড়ি বাঁধের ওপর এক লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় ভাগ্যক্রমে পাঁচজন গুলি থেকে বেঁচে গেলেও বাকি ২৫ জনের মৃত্যু হয়। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, সমর্থন ও মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দানের অপরাধে স্বাধীনতা বিরোধীরা তাদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালায়।  ২০০১ সালে ওই স্থানে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও আজও সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মো. বাচ্চু আকন বলেন, সূর্যমণি বধ্যভূমিতে এত বছর পরেও ২৫ শহীদের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ না হওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য সকল মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ হতে দাবি জানাচ্ছি।

ইত্তেফাক/নূহু