বাস না দেয়াকে কেন্দ্র করে রাবি প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৪:৪৭
 
সহপাঠীর জানাজায় অংশ নিতে বাস না দেওয়ায় প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফার্সি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তারা এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এসময় তাদের কর্মসূচিতে একাত্মা জানিয়ে ছাত্রলীগও বাসের দাবিতে আন্দোলন করে।
 
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানিউর রহমান সানি গত এক সপ্তাহ ধরে দুরারোগ্য ব্যাধি 'হেপাটাইটিস বি'-জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে প্রথমে রাজশাহীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার বিআরবি মেডিকেল ও মুগদা সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে তিনদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সানি মারা যান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। তিনি নেত্রকোনার আটপাড়া থানার দেওশ্রী গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬ টায় সানির জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
 
এদিকে সানির গ্রামের বাড়িতে তার জানাজায় অংশ নিতে যাওয়ার জন্য সহপাঠী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে একটি বাসের আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের এ আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে জোহা চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রুটের বাস বন্ধ করে বাসের দাবিতে আন্দোলন করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে দুপুর পৌনে দুইটার বাস বন্ধ ছিল। পরে দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস, জনসংযোগ দফতর প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাস কুমার কর্মকারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার করতে বলেন।
 
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বলেন, 'তোমাদের দাবি অযৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাস দেওয়া সম্ভব নয়। এভাবে বাস দেওয়ার নজির নেই।' উপাচার্যের কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে দুপুর দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের গেট আটকে দিয়ে সানির সহপাঠী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল ও স্লোগান দিতে থাকে।
 
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শেষ বারেরমতো বন্ধুকে দেখা ও তার জানাজায় অংশ নিতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বাস চেয়েছি। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার ঘটনায় বাস দেয়া হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাতির বিয়েতে বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সানির মারা যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসন বাস না দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
 
পরে টানা ৩ ঘণ্টা আন্দোলনের পর বিকেল সাড়ে ৪টায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বলেন, 'বিষয়টি আমাদের বুঝতে একটু সমস্যা হয়েছিল। তবে সানির বাড়ি অনেক দূরে, তাই এখন বাস দিলেও শিক্ষার্থীদের জানাজায় অংশ নিতে পারবে না। তাই পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা সানির বাসায় যেতে চাইলে বাসের ব্যবস্থা করা হবে।' শিক্ষার্থীরা তারপরেও বাসের দাবি অব্যাহত রাখলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সানির বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হবে জানালে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
 
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী মারা গেলে তার জানাযায় অংশ নিতে এরআগে বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার বাস না দেওয়ায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ও সানির বন্ধুরা প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। প্রশাসন আমাদের বাস দেয়নি। তাই আমরা নিজেরাই বাসের ব্যবস্থা করেছি।'
 
ইত্তেফাক/জামান