২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: ঊর্ধ্বতন কেউই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৭, ২১:৩৯
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে সমরাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেড দিয়ে হামলার পর তৎকালীন সরকার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কেউই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি। 
 
বুধবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ২৩তম দিনের মতো যুক্তিতর্কে এ তথ্য উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত ওই হামলার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি।
 
যুক্তিতর্কে বুধবার রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থাপিত সাক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা আমির হোসেন আমু, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর এবং পুলিশের ডিআইজি নওশের আলীর জবানবন্দি।
 
রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। রাষ্ট্রপক্ষের ২২৫ নম্বর স্বাক্ষী ও মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলকারী কর্মকর্তা আবদুল কাহ্হার আখন্দের জবানবন্দি থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। আদালতের আদেশে বলা হয়, আগামী ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর এ মামলার কার্যক্রম টানা চলবে।
 
রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে স্বাক্ষী আমির হোসেন আমুর জবানবন্দি উল্লেখ করে জানায়, এ সাক্ষী ২১ আগস্ট হামলায় আক্রান্তদের একজন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতা শেষ করার পরপর সাংবাদিকরা তাঁর ছবি তুলতে অনুরোধ জানায়। ছবি তুলতে সম্মতি দিয়ে নেত্রী দাঁড়ান। ঠিক তখনি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। এ সাক্ষী তখন অস্থায়ী মঞ্চে শুয়ে পড়েন। তখন তিনি দেখতে পান, নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফসহ নেতৃবৃন্দ নেত্রীকে মানবঢাল বেষ্টিত অবস্থায় নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। মুহূর্তেই সমাবেশ স্থলে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন আইন-শৃংখলা বাহিনী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে এ সাক্ষীও দেশ-বিদেশ চিকিৎসা নেন। আমু তার জবাবনন্দিতে উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতাকে হত্যার ধারাবাহিকতারই অংশ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা।
 
ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের জবানবন্দি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে বলেন, এ সাক্ষী সেদিনের ঘটনায় আহত হন। তিনি জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দূরত্ব মাত্র তিনশ’ গজের মতো, পুলিশ সদর দপ্তরের দূরত্ব সাতশ’ গজের মতো। তা সত্ত্বেও ঊর্ধ্বতন কেউই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেনি। বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে দল দিয়ে যত্নের সাথে ২১ আগস্ট সমাবেশকে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করা হয়েছে।
 
সাক্ষীর নওশের আলীর জবানবন্দি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফজলুল কবিরকে তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আমিনের নির্দেশে পরিবর্তন করা হয়।
 
প্রধান কোঁসুলিকে যুক্তিতর্ক পেশে আরও সহায়তা করছেন আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও ফারহানা রেজা। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পি.পি আবু আব্দুল্লাহ্ ভুঞা, আবুল কালাম আজাদ, আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত, শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, কাজী ইলিয়াসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল সোবহান তরফদারসহ অন্যান্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এমআই