বাংলাদেশে প্রতি ৭ জনে ১ জন সম্পত্তি নিয়ে ভোগান্তির শিকার হন। ভূমি আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া, তথ্যের অপর্যাপ্ততা, সঠিকভাবে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড তৈরি না হওয়া ভূমিসেবা নিশ্চিতকরণে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ভূমিসেবার পদ্ধতিতে দীর্ঘসূত্রতা, আর্থিক অস্বচ্ছতা ও জটিলতা কোনোভাবেই নিরসন হচ্ছে না। সরকার দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে এর সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘ভূমিসেবা ও তথ্য প্রাপ্তিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জ কর্মসূচির পরিচালক কেএএম মোর্শেদ-এর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রহমান, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মতিন-উল হক ও পরিচালক (জরিপ) মো. শামসুল আলম, ব্র্যাকের মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক সাজেদা ফারিসা কবির প্রমুখ। ভূমিসেবাকে কীভাবে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া যায় সে লক্ষ্যে ব্র্যাকের মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচি এই সেমিনারের আয়োজন করে।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমরা যদি সঠিকভাবে পরিপূর্ণ একটি ডিজিটাল জরিপ সমাপ্ত করতে পারি তাহলে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা অনেকাংশে কমে যাবে। তাই ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সুষ্ঠু করতে আমরা এখন ডিজিটাল জরিপ কাজকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি ব্র্যাকের ‘ভূমিবন্ধু’র উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রান্তিক মানুষের স্বার্থে যেহেতু ব্র্যাক কাজ করছে, আমি বিশ্বাস করি ‘ভূমিবন্ধু’র মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ভূমিতে তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।
ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ভূমিসেবায় দুর্নীতি কমিয়ে আনতে হলে নগদ লেনদেনের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে আইনের ভিত্তি থাকা দরকার।
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মতিন-উল হক বলেন, জমির ক্ষেত্রে অধিকাংশ মামলা হয় সীমানা বিরোধ, মেয়েদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চনা করা নিয়ে। এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি দ্বন্দ্ব হয় গ্রামাঞ্চলে। তিনি সীমানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সারাদেশে ‘ডিজিটাল সার্ভে’ করার তাগিদ দেন।
ব্র্যাকের মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক সাজেদা ফারিসা কবির বলেন, আমাদের ‘ভূমিবন্ধু’র উদ্দেশ্য স্বচ্ছতার সঙ্গে ভূমি সেবা, সঠিক তথ্য ও পরামর্শ প্রদান। এ কাজকে এগিয়ে নিতে এখন আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।
সেমিনারে ভূমিসেবা জনবান্ধব করতে আলোচনায় বেশ কয়েকটি সুপারিশ উঠে আসে। সেগুলো হচ্ছে— ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের মনোভাবের পরিবর্তন, ডিজিটাল জরিপের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে জরিপ অধিদপ্তরের জনবল বাড়ানো, সরকারের সেবা সম্পর্কে জনগণকে জানানো, ভূমিসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতা রোধ।
ইত্তেফাক/এমআর
