জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী খনজনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উৎযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ শনিবার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি শহর প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এসে শেষ হয়।
খনজনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, যার পূর্ব নাম ছিল খনজনপুর খাসমহল কাচারি বাড়ি পাঠশালা। জয়পুরহাট শহরের পশ্চিম প্রান্তে খনজনপুর গ্রামে ১৯০১ সালে ১৬ বিঘা জমির উপর স্থাপিত বিদ্যালয়টি এখনও আশপাশের অর্ধশত গ্রামের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে। খনজনপুরের উত্তর-পশ্চিম পাশ দিয়ে ছোট যমুনা নদী প্রবাহিত। ব্রিটিশ আমলে এ নদী পথে বহু ইংরেজ বণিক ব্যবসা বাণিজ্য করার জন্য এখানে আসেন। পরবর্তীতে পিটার নামক এক ইংরেজ এখানে একটি কুঠি স্থাপন করে নীল চাষ শুরু করেন। এ এলাকায় ধর্ম প্রচারের জন্য মিশনারি প্রতিষ্ঠা করা সহ খাসমহলের কার্যক্রম শুরু হয় ইংরেজ পিটারের সুসজ্জিত বাংলোতে। অবিভক্ত বাংলায় সরকারের যে দু’টি খাসমহল ছিল খনজনপুর খাসমহল তার অন্যতম। খাসমহল কর্মচারীদের সন্তান-সন্ততিদের শিক্ষার জন্য কাচারি বাড়ি সন্নিকটে পিটারের পরিত্যক্ত বাংলোতে পাঠশালাটির কার্যক্রম শুরু হয়। এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, কেউ প্রকৌশলী, কেউবা চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্কুলের সেই দিনের স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে শতবর্ষ উৎযাপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আ ন ম নুরল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. মোকাম্মেল হক, পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাসুদ ই রেজা। বর্তমান প্রধান শিক্ষক আজিজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বগত বক্তব্য রাখেন। শতবর্ষ উৎযাপন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করার জন্য বিদ্যালয়ের নতুন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে খনজনপুর উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠ। শিক্ষকদের সংবর্ধনা, বৃক্ষরোপণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শতবর্ষ উদযাপনের সমাপ্তি ঘটবে বলে জানান আয়োজকরা।
ইত্তেফাক/জামান
