পাল্টাপাল্টি কথার যুদ্ধ শেষ। এবার মাঠের লড়াইয়ের যুদ্ধের পালা। ছোটদের ফুটবল যুদ্ধের ফাইনাল আজ। বাংলাদেশ ভারত মুখোমুখি। কমলাপুর স্টেডিয়ামে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের নারী ফুটবল ফাইনাল শুরু হবে বেলা ২টায়। বাংলাদেশ ভারত সাফের কিশোরী ফুটবল ফাইনালে খেলবে তা আরো দিন কয়েক আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। কিন্তু কথার যুদ্ধ চলছিল টেবিলে টেবিলে। ভারত বারবারই তাদের ফুটবল কৌশল এড়িয়ে গেছে। কোনো ভাবেই তারা প্রকাশ করতে রাজী না কি করতে চায়। এবার পরিষ্কার জানিয়েছে একচুল ছাড় দিতে রাজি না। এক ইঞ্চি জমি ছাড়বে না ভারত। যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশকে ফাইনালে হারিয়ে ট্রফি নিয়ে যাবে ঘরে।
সাফের ক্ষুদে ফুটবল অঙ্গনে এবার নিয়ে ভারত টানা চারবার বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে। আজকে চতুর্থ লড়াইয়ে ভারত মারমুখী। ফুটবল শৈলীর যে ক্ষুরধার অস্ত্র রয়েছে তা আজই প্রকাশ্যে আনবে। পেছনের কথা ভুলে গিয়ে বাংলার কিশোরীদের বিপক্ষে যুদ্ধাংদেহী ফুটবল পরতে পরতে মেলে ধরবে। বাংলার কিশোরীদের পেছনে থাকবে দর্শক। এটা তাদের জন্য বাড়তি জ্বালানি। কিন্তু ভারত সব বাধা উপড়ে ফেলে বিকালের সোনালি রোদে ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে।
বাংলার কিশোরী ফুটবলার আনাই মগিনি, শামসুন নাহার, নাজমা, আঁখি, মনিকা, তহুরা, মারজিয়া, নিলা, মারিয়ারা নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করে ভারতকে থামিয়ে দিতে বুকে হাত রেখে শপথ নিয়েছে। দেশের জন্য দর্শকের জন্য ট্রফি উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রেখেছে। ঠাণ্ডা মাথার ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে থামিয়ে দেওয়ার বাড়তি টনিক আছে এই কিশোরীদের। সহজ সরল টনিকের নাম স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে। যার যার পজিশন হতে নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। তার তাতে সুফল আসবে এমন প্রত্যাশা করা যায়। আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে দেশের নারী ফুটবলে আগামী দিনের খেলোয়াড়রা। নারী ফুটবলের আগামী প্রজন্ম যারা হতে যাচ্ছেন তারা দেশমাতৃকায় উদ্বুদ্ধ।
টানা তিন মাসের অনুশীলন এবং ৫ দিনে ৩টি বড় ম্যাচ খেলেছে বাংলার কিশোরী ফুটবলাররা। ক্লান্তি আছে শরীরে। সেই ক্লান্তিকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে লড়াই করতে চায়। ঘরের মাঠে ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব—১৫ প্রথম নারী সাফের ট্রফির গায়ে নিজেদের নামটা খোদাই করতে চায়।
কমলাপুর স্টেডিয়ামে ভারতের খেলা যারা দেখেছেন তাদেরকে আজ ফাইনালে চমক দিতে চায় ভারত। সেই আশার গুড়েবালি ছিটিয়ে দিতে গতকাল সকালেও হালকা অনুশীলন করেছে বাংলার কিশোরীরা। বাংলার কোচ গোলা রাব্বানী ছোটন গত দুই দিন পরিকল্পনা করেছেন কীভাবে ভারতকে রেড সিগন্যাল দেখানো যায়, তা নিয়ে কাজও করা হয়েছে। ভারতও বসে ছিল না। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ভারতীয় নারী ফুটবল যেন ঐতিহ্য নিয়ে লড়াই করতে পারে তা নিয়েও টেবিল ওয়ার্ক করেছেন দলের নারী কোচ ময়মল রকি।
ভারতী অধিনায়ক বন্যা কবিরাজ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তারা বাংলার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বেন। বলেছেন, ‘আমরা অলআউট ফুটবল খেলবো। কোনো ছাড় নেই। আগের খেলায় হেরেছি। তার মানে এই নয় যে, প্রতিদিন একই ঘটনা ঘটবে।’
ইত্তেফাক/এমআর
