মহৎমানস

সিআরপি’র পথচলা

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩:১৫
 
মেরুরজ্জুতে আঘাতপ্রাপ্ত (SCI) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিত্সা, পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতধারায় একীভূত করার লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ১১ ডিসেম্বর ড. ভ্যালরি অ্যান টেইলর পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসনকেন্দ্র (সিআরপি) প্রতিষ্ঠা করেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের দুটি পরিত্যক্ত সিমেন্ট গোডাউনে চার জন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী নিয়ে সিআরপি’র যাত্রা শুরু হয়। ভ্যালরি’র অক্লান্ত প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা প্রদানে সিআরপি আজ একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে
 
মেরুরজ্জুতে আঘাতপ্রাপ্ত (SCI) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিত্সা, পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতধারায় একীভূত করার লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ১১ ডিসেম্বর ড. ভ্যালরি অ্যান টেইলর পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসনকেন্দ্র (সিআরপি) প্রতিষ্ঠা করেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের দুটি পরিত্যক্ত সিমেন্ট গোডাউনে চার জন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী নিয়ে সিআরপি’র যাত্রা শুরু হয়। ভ্যালরি’র অক্লান্ত প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা প্রদানে সিআরপি আজ একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ‘Service to Sufferers is Service to God’ স্লোগান নিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাছে সিআরপি আজ আশার আলোকবার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
 
ভ্যালরি অ্যান টেইলর ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯৬৯ সালে ভলান্ট্যারি সার্ভিস ওভারসিজ (VSO) নামক একটি স্বচ্ছাসেবী সংগঠনের কাজে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) আসেন। তিনি বাংলাদেশের চট্টগ্রামের নিকট অবস্থিত চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টান হাসপাতালে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে যেতে বাধ্য হন। কিন্তু ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তখনো যুদ্ধ শেষ হতে দুই মাস বাকি। এ সময় তাঁর কাজ আরো বেড়ে যায়। কারণ, যুদ্ধের কারণে পঙ্গুত্বের হার বেড়ে গিয়েছিল কয়েকগুণ। তিনি সফলভাবেই সেই কাজ করতে সমর্থ হন। বাংলাদেশে একটি সার্থক পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত অর্থ ও অন্যান্য সাহায্যের ব্যবস্থা করার উদ্দেশে ১৯৭৩ সালে তিনি আবার ইংল্যান্ডে ফিরে যান। ১৯৭৫ সালে তিনি পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এই সময় তিনি ঢাকায় অবস্থিত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৯ সালে অনেক কষ্ট এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই হাসপাতালের দুটি পরিত্যক্ত গুদামঘরে প্রথমে একেবারে ছোট আকারে প্রতিষ্ঠা করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিআরপি এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু করেন। সিআরপিকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের যথাপোযুক্ত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের মাঝামাঝিতে ঢাকা মহানগরীর অদূরে সাভারে একটি স্থায়ী পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।
 
সিআরপি’র বর্তমান অবস্থা
 
সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইস্ড (সিআরপি) বা পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসনকেন্দ্র হলো বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক অধিদপ্তর এবং সমাজসেবা বিভাগে নিবন্ধনকৃত একটি অলাভজনক জাতীয় প্রতিষ্ঠান—যেখানে মেরুরজ্জুতে আঘাত, স্নায়বিক ও অস্থি-হাড় সংক্রান্ত সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিশেষায়িত সেবা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশের দরিদ্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিত্সা এবং পুনর্বাসন সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সিআরপি এককভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চিকিত্সাধীন সময় এবং পরবর্তী সময়ে রোগীদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তার নিরিখে যথাযথ চিকিত্সা ও পুনর্বাসন সেবা দেওয়াই সিআরপি’র লক্ষ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৫% প্রতিবন্ধী (WHO, 2011)। এই প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ মেরুরজ্জুতে আঘাত পেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়, যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। প্রতি বছর সিআরপি থেকে প্রায় ৪০০ জন মেরুরজ্জুতে আঘাতপ্রাপ্ত এবং ৮০,০০০ জন রোগী বহির্বিভাগ থেকে চিকিত্সা নিয়ে থাকে। সিআরপিতে মেরুরজ্জুতে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি অন্যান্য অর্থোপেডিক ও নিউরোলজিক্যাল সমস্যারও চিকিত্সা করা হয়। এক্ষেত্রে স্ট্রোক রোগী ও সেরিব্রাল পলসি আক্রান্ত শিশুদের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
 
শুরুতে রোগী সিআরপি’র বহির্বিভাগে আসে রোগ নির্ণয়ের জন্য। মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম-এর (ডাক্তার, থেরাপিস্ট, নার্স) মাধ্যমে রোগীর রোগ নির্ণয়ের পরে রোগীকে মেডিক্যাল সার্ভিস, থেরাপিউটিক রিহ্যাবিলিটেশন এবং সাইকোসোশ্যাল সার্ভিস প্রদান করা হয়। পুনর্বাসন সেবায় সিআরপি’র উদ্দেশ্য হলো রোগীদেরকে নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার সাহায্যে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা।
IMG0
লক্ষ্য-উদ্দেশ্য
 
সিআরপি’র মূল লক্ষ্য হচ্ছে—সকল প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ে, নারী-পুরুষকে সমাজের মূল স্রোতধারায় একীভূতকরণ । এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা—যেখানে সকল প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ে, নারী-পুরুষ তাদের স্বাস্থ্য, পুনর্বাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাহ্যিক পরিবেশ এবং তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করে। আসলে সিআরপি’র অভিলক্ষ্যসমূহ (অবজেকটিভস) হচ্ছে :
 
শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে সামনে রেখে চিকিত্সা, পুনর্বাসন এবং সহযোগিতা প্রদান।
 
চিকিত্সা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা।
 
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সিআরপি’র শাখা স্থাপন করা।
 
প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা।
 
শিশুদের প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ, পুনর্বাসন এবং একীভূত শিক্ষা বাস্তবায়নে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা।
 
প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে অ্যাডভোকেসি এবং নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক এবং পরিবেশগত বাধাগুলোকে দূর করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজে সমানভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
 
সমাজভিত্তিক পুনর্বাসন (সিবিআর) এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।
 
প্রতিবন্ধী নারীদের আরো আত্মবিশ্বাসী, শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং চাকরি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।
 
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
 
সিআরপি’র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নিয়মিত গবেষণা করা।
 
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করা।
 
সিআরপি’র প্রধান সেবাসমূহ
 
স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি ইউনিট
 
সিআরপি’র প্রধান কার্যালয় সাভারে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি ইউনিট আছে, যা এই উপমহাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন। স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি ইউনিটে ডাক্তার, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট, নার্স, সমাজকর্মী, কাউন্সিলর প্রমুখদের সমন্বয়ে গঠিত রোগী-কেন্দ্রিক ইন্টারডিসিপ্লিনারি টিমের (IDT) মাধ্যমে মেরুরজ্জুতে আঘাতজনিত পক্ষাঘাত রোগীদের চিকিত্সা করা হয়। এখানে  অধিকাংশ রোগীই আসেন সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র অংশ থেকে এবং কাজ করার সময়ই তাঁরা সাধারণত মেরুরজ্জুতে আঘাত পেয়ে থাকেন। যেমন—উঁচু স্থান থেকে পড়া, মাথায় ভারী বোঝা বহন, সড়ক দুর্ঘটনা, অটোরিক্সায় ওড়না পেঁচিয়ে মেরুরজ্জুতে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া ইত্যাদি। এছাড়াও মেরুরজ্জুতে টিবি এবং ভাইরাস সংক্রমণের ফলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে পারে। এঁদের মধ্যে খুব কমসংখ্যক রোগীই তাঁদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসন সেবার ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম হন। সিআরপি’র ৯০ শতাংশ রোগীর জন্য আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন। সিআরপি’র নিজস্ব রেডিওলোজি, প্যাথলজি বিভাগ এবং ফার্মেসি আছে—যেখান থেকেও রোগীদের আর্থিক সহায়তা করা হয়। চিকিত্সা, পুনর্বাসন, কাউন্সিলিং ও শারীরিক দক্ষতা বৃদ্ধির পরে সিআরপি রোগীদেরকে নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে। এছাড়াও নিয়মিত হোম-ভিজিটের মাধ্যমে রোগীদের শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ করে এবং রোগীদের নিয়ে সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করে। ডিজেবল পিপলস্ অরগানাইজেশনের (DPO) মাধ্যমে রোগীদের ক্ষমতায়নে উত্সাহিত করে।
 
শিশু বিভাগ
 
সেরিব্রাল পলসি ও অটিজমসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার শিশুদের চিকিত্সাসেবার জন্যে এখানে রয়েছে শিশু বিভাগ। এখানে চিকিত্সার জন্য আগত শিশুদের বহির্বিভাগে এবং ভর্তি রেখে দু’ ভাবেই সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। শিশুদের থেরাপি-সেবা প্রদানের পাশাপাশি তাদের মায়েদের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন নিদের্শনা দেওয়া হয়, যাতে তারা বাড়ি ফিরে তাদের শিশুদের এই সেবা অব্যাহত রাখতে পারে। এছাড়া নিয়মিতভাবে শিশুদের মুগুর পা (ক্লাফ ফিট) এবং বাত্সরিক ক্যাম্পের মাধ্যমে ঠোঁট ও তালু কাটার চিকিত্সা প্রদান করা হয়।
 
অর্থোটিক্স অ্যান্ড প্রোস্থেটিক্স
 
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজনের মাধ্যমে শরীরের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে সহায়তা করে থাকে সিআরপি’র অর্থোটিক্স ও প্রোস্থেটিক্স বিভাগ।
 
সমাজভিত্তিক পুনর্বাসন কর্মসূচি
 
চিকিত্সা ও পুনর্বাসন ছাড়াও সিআরপি’র অপর গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে—সমাজভিত্তিক পুনর্বাসন (সিবিআর) কার্যক্রম। ১৯৯৪ সালে সমাজের সর্বস্তরের সহযোগিতায় স্থানীয়ভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিত্সা, প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় সিবিআর। বর্তমান সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় দেশের ৮টি জেলার ৬১টি উপজেলায় সিআরপি’র সমাজভিত্তিক পুনর্বাসন কর্মসূচি (সিবিআর) চালু আছে।
 
কারিগরি প্রশিক্ষণ
 
একজন কর্মক্ষম ব্যক্তি কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধিতার শিকার হলে তার পক্ষে পুনরায় পূর্বের পেশায় ফিরে যাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সিআরপি’র পুনর্বাসন সেবার অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করে থাকে। এ লক্ষ্যেই সিআরপি এর বিভিন্ন শাখায় কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে বিনামূল্যে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার ব্যক্তিদেরকে তাদের নিজ নিজ শিক্ষা, দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী সেলাই, ইলেকট্রনিক্স মেরামত, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, দোকান ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যাপারেও সহায়তা করা হয়।
 
বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস্ ইনস্টিটিউট
 
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসনের জন্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবী সৃষ্টির লক্ষ্যে সিআরপি ১৯৯২ সালে এর সাভার ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস্ ইনস্টিটিউট (বিএইচপিআই)। কয়েক বছরেই স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখায় বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে বিএইচপিআই। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুচিকিত্সা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিসহ মোট ১৩টি কোর্সে স্নাতকোত্তর, স্নাতক, ডিপ্লোমা ও অ্যাসিস্টেন্ট কোর্স চালু করেছে।
 
উপকেন্দ্র ও বিভাগীয় কেন্দ্র
 
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সিআরপি’র সেবা কার্যক্রম সমগ্র দেশে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি, দেশি-বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আন্তরিক সহযোগিতায় প্রধান কার্যালয় সাভার সিআরপি-সহ ১২টি সাব-সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এগুলো হলো—সাভারের গণকবাড়ি, সিআরপি মিরপুর-ঢাকা, সিআরপি-নবাবগঞ্জ, সিআরপি-মানিকগঞ্জ, সিআরপি-গোবিন্দপুর, সিআরপি-মৌলভীবাজার, কারসা ফাউন্ডেশন সিআরপি-বরিশাল, এ. কে. খান সিআরপি-চট্টগ্রাম, আফসার হোসেন সিআরপি-রাজশাহী, সিআরপি পাবনা ডায়াবেটিক সমিতি, বাউবি শাখা সিআরপি-ময়মনসিংহ, ইসকন্দর সিতারা সিআরপি-সিলেট। সম্প্রতি দেশের প্রতিটি বিভাগে বিভাগীয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে রংপুর বিভাগ ও খুলনা বিভাগে সেবা কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।
 
ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা
 
বিভাগীয় কেন্দ্রসমূহে চিকিত্সা, পুনর্বাসন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ (সেলাই, ইলেকট্রনিক্স মেরামত, দোকান ব্যবস্থাপনা এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ) সুবিধাসমূহ বিস্তার করা।
 
রোগীদের আবাসিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা।
 
স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অকুপেশনাল থেরাপি এবং স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি কোর্স চালু করা।
 
সমাজভিত্তিক পুনর্বাসন কর্মসূচি (সিবিআর) এবং স্থানীয়ভাবে পরামর্শের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর