ভেন্যু পাকিস্তান, আপত্তি বিসিবিরও

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:৪২
দেশে পুরোদমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে চেষ্টার কমতি করছে না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আর তারই অংশ হিসেবে এবারের ইমার্জিং এশিয়া কাপ আয়োজনের কথা ছিল দেশটিতে। তবে, বেকে বসেছে বাংলাদেশ ও ভারত।
 
গেল অক্টোবরে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) ইমার্জিং কাপ ক্রিকেট আয়োজনের দায়িত্ব পায় পিসিবি। পিসিবি মনে করেছিল এই টুর্নামেন্টে এশিয়ার সব শীর্ষ দলগুলোর অংশগ্রহণ থাকবে। তবে, সেই আশায় গুড়েবালি। বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) আগে থেকেই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে পাকিস্তানে কোনো রকম ক্রিকেট খেলার বিপক্ষে। আর এবার নিরাপত্তার কারণে বেঁকে বসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এমনটা জানিয়েছে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা দ্য ডন। যদিও, দেশিয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
 
গেল সপ্তাহে দুবাইয়ে এসিসির বোর্ড সভায় বিসিবি ও বিসিআইয়ের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে পিসিবির এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) বলেন, ‘২৯ অক্টোবর পাকিস্তানকে এসিসির বৈঠকে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব দেওয়া হয়। তবে সেখানে ভারত ও বাংলাদেশের কেউ উপস্থিত হননি।’
 
তিনি দাবি করেছেন, সংস্থা দু’টি সরাসরি ভেন্যুর ব্যাপারে বিরোধিতা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। ডন জানিয়েছে, দুই দেশের বোর্ডের পক্ষ থেকে টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ পরিবর্তনের জন্য আইসিসি বরাবরও চিঠি পাঠানো হয়েছে। যদিও এখনো পাকিস্তানের কাছ থেকে আয়োজক স্বত্ব কেড়ে নেওয়া হয়নি। তবে এশিয়ার বড় দুই দেশের বিরোধিতায় আপাতত এই টুর্নামেন্ট স্থগিত করা হয়েছে। পাকিস্তান এ আসর আয়োজনের অনুমতি পেলেও ভারত ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আপত্তি থাকায় আপাতত তা স্থগিত রয়েছে।
 
এমন অবস্থায় পাকিস্তানও হাল ছাড়বে না জানিয়ে পিসিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে আসরটি পাকিস্তানের মাটিতে আয়োজন করতে চাই আমরা। এশিয়ান ইমার্জিং নেশন্স কাপ আয়োজনের জন্য আমরা নিজেদের ক্ষমতার মধ্যে যথাসম্ভব সব রকম চেষ্টাই করব।’
 
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) অবশ্য এই টুর্নামেন্ট নিয়ে কোনো রকম আপত্তি জানায়নি। আর ক’দিন আগেই পাকিস্তানের লাহোরে জাতীয় দল পাঠানোয় বোঝা যাচ্ছে পাকিস্তানে ক্রিকেট ফেরানোয় সংস্থাটি তাদের পাশেই আছে। তাই বাংলাদেশ বিরোধিতা করায় পিসিবির ক্ষোভটা ভারতের দিকেই বেশি। পিসিবির ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রধানত ভারতই এর বিরোধিতা করেছে। রাজনৈতিক কারণে তারা পাকিস্তানে দল পাঠাতে পারবে না। তবে ভেন্যু নির্বাচনের আগে এ নিয়ে আলোচনা করা উচিত ছিল।’ আপাতত স্থগিত করা হলেও পিসিবি প্রধান নাজাম শেঠি এরই মধ্যে লাহোরকে প্রধান ভেন্যু রেখে গেল ২৯ অক্টোবর টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দিয়েছেন। তবে, নিঃসন্দেহে বলে দেওয়া যায় পাকিস্তানে এই টুর্নামেন্টটি আদৌ মাঠে নাও গড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে বিকল্প ভেন্যু খুঁজে বের করতে হবে এসিসিকে।
 
ইত্তেফাক/কেআই