কলেজে নিজের রুমে মাথার ওপর একটি ‘ছবি’ টাঙ্গান রায়হান মাস্টার। এই ছবির ব্যাপারে কলেজের কিছু শিক্ষক আপত্তি তোলে। কিন্তু রায়হান মাস্টার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। ব্যাপারটা কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে স্থানীয় প্রশাসন থেকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পর্যন্ত পৌঁছায়।
সুবিধা ভোগী চরিত্র কলেজের অধ্যক্ষ রায়হান মাস্টারকে ডেকে নিয়ে ছবি নামানোর পরামর্শ দেন। অন্যথায় রায়হান মাস্টারকে খাগড়াছড়িতে বদলী হতে হবে বলে হুশিয়ারিও প্রদান করেন। রায়হান মাস্টার তবুও মাথার ওপর থেকে ছবি নামান না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজের সংসারেও টানাপোড়েন দেখা দেয়।
স্কুল পড়ুয়া আদুরে মেয়ে, বেকার এক ভাই ও বিবাহযোগ্যা এক বোনকে নিয়েই রায়হান মাস্টারের সংসার। ছবি সংক্রান্ত জটিলতায় ঘৃণ্য রাজনীতির শিকারে পরিণত হয় পরিবারটি। শেষ পর্যন্ত খাগড়া ছড়িতেই বদলী হন রায়হান মাস্টার। কয়েক বছর পর আবার সেই কলেজেই প্রিন্সিপাল হয়ে ফিরে আসেন। ততদিনে বদলে গেলে দেশের ছবি...।
IMG0
এমনি এক প্রতিবাদ মুখর ও মায়াময় কাহিনী নিয়ে বিধৃত হয়েছে রেজানুর রহমানের টেলিফিল্ম ছবি’র গল্প। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আড়াল করে রাখার ঘৃণ্য প্রেক্ষাপটে সমসাময়িক সমাজ বাস্তবতা ফুটে উঠেছে এই টেলিছবিতে। গাজীপুরের অদূরে মাওনায় পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সহ বিভিন্ন এলাকায় এই টেলিছবির শুটিং হয়েছে।
বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, শাহাদৎ হোসেন, সুমনা সোমা, শাহানা সুমি, রাজিব সালেহীন, সুকর্ন হাসান, মিন্টু সরদারসহ এলাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাট্যকর্মী এই টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন। রায়হান মাস্টারের স্কুল পড়ুয়া মেয়ের চরিত্রে শিশুশিল্পী তাহা অভিনয় করেছে। ছবি’র আবহ সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন মকসুদ জামিল মিন্টু। ক্যামেরায় ছিলেন ইব্রাহিম করিম পলাশ। চ্যানেল আইতে এটি প্রচার হবে ২৯ ডিসেম্বর বেলা ৩টা ৫ মিনিটে।
ইত্তেফাক/আনিসুর
