দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন। আর এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পোস্টার, ব্যানার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে প্রতিটি অনুষদ, একাডেমিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া ও হলসহ সকল জায়গায় শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন প্রার্থীর পোস্টার। এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন মোট ১১৯ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দুটি প্যানেল থেকে ৫০ জন, বিএনপি থেকে ২৫ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৪ জন। তবে এক্ষেত্রে নির্বাচনী প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে আওয়ামীপন্থীদের দুটি প্যানেল। এর একাংশ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক সদস্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির ও কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা। অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের নেতৃত্বে এই জোট বিভিন্ন জেলায় গিয়ে ছোট ছোট অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্যানেল সম্পর্কে অধ্যাপক শরীফ এনামুক কবির ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করতে পারব। কারণ আমাদের প্রার্থীরা যেমন জ্ঞানী তেমন দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং সমাজে প্রভাবশালী। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে তারাই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
আওয়ামী লীগের অন্য একটি প্যানেল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল গ্র্যাজুয়েট মঞ্চ এর নেতৃত্ব রয়েছেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম এ মতিন ও অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী। এ প্যানেলটিতে বেশির ভাগই রয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও ছাত্র ইউনিয়ন এবং ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা। তারা অপেক্ষাকৃত নবীন এবং তরুণ। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের প্রচারণাও অব্যাহত রয়েছে। এ প্যানেল সম্পর্কে অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। আমাদের প্যানেলের বেশির ভাগ প্রার্থীই তরুণ।’
অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন আবদাল আহমেদ ও অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম। তারাও বিভিন্নভাবে প্রচারণার ম্যাধমে ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের বিষয়ে অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘আমরা আশা করি- নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা অবশ্যই জয়ী হব। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগ প্রার্থীদেরকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে। তারাও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান সতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল হক কৌশিক।
ইত্তেফাক/ইউবি
