নোট-গাইডের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে দুদক

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:০৩
 
নোট-গাইডের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও অভিযানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার দুদকের একটি বিশেষ টিম আকস্মিকভাবে রাজধানীর নীলক্ষেত, হজরত শাহজালাল মার্কেট, বাবুপুরা মার্কেট, বাকুশাহ মার্কেট, ইসলামীয়া মার্কেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে অনুসন্ধান চালায়। দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে এই অভিযান টিমে ছিলেন— দুদকের সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ ও সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুদুর রহমান। অভিযান শেষে গতকাল বিকালে বিশেষ টিম কমিশনে একটি প্রতিবেদনও দাখিল করেন।
 
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচটি মার্কেটের প্রতিটি দোকানে অননুমোদিত ও নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। দ্বিতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য বিভিন্ন নামে বিভিন্ন কোম্পানির গাইড বই বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গাইড বইয়ের অন্যতম প্রকাশনী পাঞ্জেরী, লেকচার, অনুপম, নবদূত, জননী, পপি ও জুপিটার, জ্ঞানগৃহ, পপি, মিজান লাইব্রেরী, কাজল ব্রাদার্স, দি রয়েল সাইন্টেফিক পাবলিকেশন্স। এ ছাড়া শ্রেণিভিত্তিক গাইড বইয়ের পাশাপাশি ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স শ্রেণির বিভিন্ন গাইড বই এবং প্রফেসর’স, ওরাকল, এমপিও, থ্রি ডক্টরস ও সাইফুরসের চাকরিতে নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন গাইড বাজারে রয়েছে।
 
দুদক সূত্র জানায়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে একশ্রেণির নোট-গাইড প্রকাশনা সংস্থা নোট-গাইড বাজারজাত করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করছে। এমন একটি অভিযোগ আসায় এ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। দুদক সূত্র আরো জানায়, দেশে ১৯৮০ সাল থেকে নোট বই নিষিদ্ধকরণ আইন আছে। এই আইন অনুসারে গাইড ও নোট বই ছাপা ও বাজারজাত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া ২০০৮ সালে নির্বাহী আদেশে নোট বই ও গাইড বই নিষিদ্ধ করা হয় এবং ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ নোট বা গাইড বই নিষিদ্ধের জন্য ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ জারি করেন।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর