‘অমর শিল্পী আব্দুল আলীম বাংলা লোক সঙ্গীতকে অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। যেখানে জীবন জগত্ এবং ভাববাদী চিন্তা একাকার হয়ে গিয়েছিল। বাল্যকাল থেকেই আব্দুল আলীম সঙ্গীতের প্রবল অনুরাগী। মাত্র তেরো বছর বয়সে তার গান রেকর্ড হয়। এত অল্প বয়সে গান রেকর্ড হওয়া সত্যিই বিস্ময়কর। তার নিজস্ব গায়কি ও সুর-মাধুর্যের গুণে আব্দুল আলীম হয়ে উঠেছিলেন একজন অনন্য সাধারণ শিল্পী।’
গতকাল শনিবার বিকালে জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে কথামালায় আব্দুল আলীম স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন ও লোকশিল্পী আজগর আলীম। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান বলেন, ‘বাংলা লোক সঙ্গীতের এই অমর শিল্পী লোক সঙ্গীতকে অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। বাল্যকাল থেকেই আব্দুল আলীম সঙ্গীতের প্রবল অনুরাগী। অর্থনৈতিক অনটনের কারণে কোনো শিক্ষকের কাছে গান শেখার সৌভাগ্য তার হয়নি। তিনি অন্যের গাওয়া গান শুনে গান শিখতেন; আর বিভিন্ন পালা পার্বণে সেগুলো গাইতেন। এভাবে পালা পার্বণে গান গেয়ে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ’
তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘অল্প বয়স থেকেই বাংলার লোকসঙ্গীতের এই অমর শিল্পী গান গেয়ে নাম করেছিলেন। মাত্র তেরো বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে তার গানের প্রথম রেকর্ড হয়। এত অল্প বয়সে গান রেকর্ড হওয়া সত্যিই বিস্ময়কর। পরে তা আর বিস্ময় হয়ে থাকেনি, তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলার লোক সঙ্গীতের এক অবিসংবাদিত-কিংবদন্তি।’
আজগর আলীম বলেন, দেশভাগের পর আব্দুল আলীম ঢাকা এসে বেতার-শিল্পীর মর্যাদা লাভ করেন। তিনি দেশ-বিদেশে বাংলা লোকসঙ্গীতের পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি মারফতি-মুর্শিদী গানে ছিলেন অদ্বিতীয়। তার দরদভরা কণ্ঠে মরমিধারার এ গান অতি চমত্কারভাবে ফুটে উঠত।
মফিদুল হক বলেন, আব্দুল আলীমের কণ্ঠোপযোগী গান রচনা করেছেন পল্লীকবি জসীমউদ্দীন, কবি আজিজুর রহমান, আবদুল লতিফ, খান আতাউর রহমান, ওস্তাদ মোমতাজ আলী খান, কানাই লাল শীল, সিরাজুল ইসলাম, শমশের আলীসহ অনেকে। নিজস্ব গায়কি ও সুর-মাধুর্যের গুণে আব্দুল আলীম ছিলেন একজন অনন্য সাধারণ শিল্পী।
ইত্তেফাক/নূহু
