বিএনপিকে নতুন বছরে অপরাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত 'শুভ নববর্ষের অঙ্গীকার প্রতিহত করো চিহ্নিত সন্ত্রাসী বিএনপি জামায়াত রাজাকার' শীর্ষক অালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নতুন বছরে আমার প্রত্যাশা হচ্ছে বিএনপি অপরাজনীতির মাধ্যমে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে, জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্টোল ঢেলে দিয়ে, জীবন্ত মানুষকে হত্যা করে মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়ে যে অপরাজনীতি অতীতে করেছে এবং অপরাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়েছে নতুন বছরে তারা এই অপরাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসবে এবং তারা যে আজকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এই তকমা থেকে বেরিয়ে এসে তারা আবার রাজনৈতিক দল হিসেবে মানুষের সামনে নিজেদেরকে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টা চালাবে।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে ঘিরে ১২ই জানুয়ারিকে সামনে রেখে বিএনপি আবার বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার ছক একেঁছে। এবং সেই লক্ষেই তারা ৫ই জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে। ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে আমরা দেখেছি যখনই তারা (বিএনপি) সমাবেশ করেছে পরবর্তীতেও আমরা দেখেছি সেখান থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারি বিএনপির সমাবেশ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে ঢাকা শহরে এবং দেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালানো। তারা জানে বেগম খালেদা জিয়ার যে বিচার চলছে এই বিচারে হয়তোবা বেগম জিয়ার শাস্তি হবে। এটি অাচঁ করে তারা অাদালতের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষে আদালতের অভ্যন্তরে এবং বাইরেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, যাদের জনগণের বিষয় অাশয় নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নাই। কিভাবে ক্ষমতায় যেতে পারে সেটি নিয়ে যাদের মাথা ব্যাথা। যারা শুধুমাত্র তাদের পছন্দনীয় সুবিধা জনক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক কর্মসুচি দেয় এবং রাজনৈতিক কর্মসুচির নামে মানুষের গায়ে পেট্টোল বোমা নিক্ষেপ করে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, মানুষকে অবরুদ্ধ করে রাখে জনগন তাদের পাশে থাকতে পারে না। সেই কারণেই তাদের ভরসা ২০১৮সালে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা, একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা।
'জনগণকে ভীত সন্ত্রস্ত করে ক্ষমতায় থাকা যায় না' মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণ অাজকে ভীত সন্ত্রস্ত আপনাদের কারণে। যখন বেগম খালেদা জিয়া অান্দোলনের ঘোষণা দেয় তখন জনগণ মনে করছে আবার বিএনপির পেট্টোল বোমা বাহিনী ধেয়ে আসছে। যখন বিএনপি নেতারা গরম গরম বক্তব্য দেয় তখন জনগন মনে করে দেশে আবার একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বা হবে। সুতরাং জনগন আপনাদের কারণে ভীত সন্ত্রস্ত।
ড. কামাল হোসেনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তিনি অনেক বড় মাপের ব্যক্তি। কিন্তু তিনি ব্যক্তিনির্ভর। জনগণের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বঙ্গবন্ধু সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখন তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নিয়ে কথা বলেন। তাকে বলবো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দিকে তাকান। সেখানে সিনেট ও কংগ্রেসে অন্তত ২০ শতাংশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণের ওপর পেট্টোল বোমা নিক্ষেপ করে, জনগনকে পুড়িয়ে হত্যা করে ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। নতুন বছরে আমি আশা করবো আপনারা অতীত কর্মকান্ডের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইবেন এবং বলবেন নতুন বছরে আমরা জনগনের রাজনীতি করবো এবং অপরাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসবো।
নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে জনগণকে অনুরুধ জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি জামায়াত জঙ্গীগোষ্ঠিকে সঙ্গে নিয়ে এবং কিছু নাম সর্বস্ব দল ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে গতবছর তারা পালিয়ে যাওয়া প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করেছিলো সেই ষড়যন্ত্রে তারা সফল হয়নি। এই বছর তারা দেশে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে একটি বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করার ছক একেঁছে। আমাদের সবাইকে সেই ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে। যারা পেট্টোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করে রাজনীতির নামে তাদেরকে নতুন বছরে প্রতিহত করতে হবে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি লায়ন চিত্ত রঞ্জন দাশের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট অাসাদুজ্জামান দুর্জয়, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, অরুন সরকার রানাসহ প্রমুখ।
ইত্তেফাক/কেকে
