টানা সপ্তম দিনের মতো গতকাল সোমবারও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে বছরের প্রথম দিনেও আন্দোলন অব্যাহত ছিল। আমরণ অনশন কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে গতকাল শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে কেউ কেউ শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। শিক্ষকরা বলেন, অনশন চলাকালে মৃত্যুর খবর শোনার আগেই প্রধানমন্ত্রী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে এমপিওভুক্তির কোনো ঘোষণা বা আশ্বাস না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষকরা। তারা বলেছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রেসক্লাবের সামনেই অবস্থান করবেন।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের কৃতিত্বের দাবিদার হলেও আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেই ফলাফলের আনন্দে অংশীদার হতে পারিনি। তাছাড়া পহেলা জানুয়ারি বই উত্সবেও অংশগ্রহণ করতে পারিনি। এটা আমাদের জন্য কষ্টের।
গতকাল ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছেন বলে আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন। কুড়িগ্রামের চিলখালা মডেল কলেজের মো. ফরহাদ, বরিশালের আল-ইখন দাখিল মাদ্রাসার বজলুর রহমান, কুষ্টিয়ার খোকসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আব্দুর রাজ্জাক, বরিশালের আল ইখওয়াসা দাখিল মাদ্রাসার ফজলুর রহমানের অবস্থা গুরুতর বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
গতকাল কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা এম.এ সাঈদ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ ও খালেকুজ্জামান লিপন, ন্যাপের সম্পাদক পার্থ সারথী চক্রবর্তী, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য ক্বাফি রতন ও জলি তালুকদার, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আকবর খান প্রমুখ।
ইত্তেফাক/নূহু
