২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনায় আনা মামলায় পলাতক আসামি পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। আজ পলাতক আসামি হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী চৈতন্য হালদার যুক্তিতর্ক পেশ শুরু করেন। সাক্ষ্যের আলোকে তিনি যুক্তিতর্ক পেশ করেন। বুধবার এ মামলার তারিখ ধার্য রয়েছে।
প্রসঙ্গ, ২১ আগস্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দু'টি মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। এদের মধ্যে আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। সোমবার যুক্তিতর্কের ২৫ তম দিনে মামলার ৪৯ জন আসামির আইন অনুযায়ি সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। যুক্তিতর্ক পেশকালে অ্যাডভোকেট চৈতন্য হালদার বলেন, আসামি হানিফের নাম মামলার মূল এজাহার, এ মামলা সংক্রান্তে জিডি, প্রথম অভিযোগপত্রে ছিল না। কোন সাক্ষী ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারায়ও তার নাম বলেননি। এ মামলার অধিকতর তদন্তকালীন আসামি মুফতি হান্নান তার দ্বিতীয় দফায় দেয়া জবানবন্দিতে হানিফকে সম্পৃক্ত করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা আদালতে শুনানির জন্য উত্থাপিত হলে রাষ্ট্রপক্ষে মোশররফ হোসেন কাজল আইনি পয়েন্টে বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র তথ্য ফৌজদারি ষড়যন্ত্র (ক্রিমিনাল অফেন্স) কিভাবে হয়েছে তা আইনি পয়েন্ট এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক মামলার নজিরের আলোকে আদালতে পেশ করা হবে। এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়ের কিছু অংশ আদালতে দাখিল করেন।
সোমবার যুক্তিতর্কের ২৫তম দিনে মামলার ৪৯ জন আসামির আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান আইনি পয়েন্টে ওইদিন যুক্তি পেশ করেন। মামলার সকল আসামির বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ স্বতন্ত্র, নিঃস্বার্থ, দালিলিক ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের দেয়া সাক্ষ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধান কৌঁসুলি।
তিনি আদালতে বলেন, ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার প্রার্থী মানুষের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে আইনের বিধানের আলোকে আসামিদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করছি। এর আগে মামলায় সাক্ষীদের দেয়া জবানবন্দির আলোকে (ফ্যাক্ট) যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২২৫ জন সাক্ষী (পিডব্লিউ) ও আসামিপক্ষে ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য (ডিডব্লিউ) পর্যালোচনা করে আদালতে যুক্তিতর্কে পেশ শেষ করা হয়।
ইত্তেফাক/এমআই
