ফের আন্দোলনে নেমেছে রাজধানীর ভাটারায় অবস্থিত বেসরকারি পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীরা। ১৩ দফা দাবি আদায়ে আজ দুপুরে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভেতরে রেখেই কলেজটির প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। এর আগে, এক নেপালি ছাত্রীর আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে গত ২০ ডিসেম্বর বিক্ষোভে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
IMG0
এছাড়া স্বদেশি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাকে রহস্যজনক উল্লেখ করে গত ২৩ ডিসেম্বর কলেজ ভবন ঘেরাও করে সেখানে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীরা। উল্লেখ্য, গত ১৯ ডিসেম্বর কলেজ হোস্টেলে নিজের আবাসিক রুম থেকে ২২তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বিনিশা শাহ’র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকেই কলেজটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা ১০ দফা দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের মধ্যে দাবি পূরণের শর্তে আন্দোলন বন্ধ করে। কিন্তু গত ১৫ দিনেও শিক্ষার্থীদের কোনো দাবি পূরণ না হওয়ায় বুধবার আবারও আন্দোলনে নামেন তারা।
IMG1
এবার নতুন করে ১৩ দফা দাবি নিয়ে সকাল থেকেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত না করায় সাড়ে ১২টার দিকে কলেজের প্রধান ফটকে লাগিয়ে দেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজটির প্রথমবর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘এখানে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। নানা অজুহাতে টাকা নেয় তারা। অহেতুক জরিমানা ও অকৃতকার্যের ফাঁদে পড়ে অনেকেই এখান থেকে আর নির্বিঘ্নে পাস করে বেরুতে পারেন না।’
IMG2
সালমান নামে কলেজের আরেক শিক্ষার্থী জানান, পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের ওপর অমানবিক চাপ প্রয়োগ করছে। অনৈতিকভাবে জরিমানা আদায়, অতিরিক্ত টাকা দাবি ও ফেল করিয়ে জরিমানার ফাঁদ পেতেছে। ৫ বছরের কোর্স ৭ বছরেও শেষ করতে পারিনি। মৌখিক পরীক্ষায় একবার পাস করি তো লিখিত পরীক্ষায় ফেল করি। আরেকবার লিখিত পাস তো মোখিক পরীক্ষায় ফেল। ফেল করলেই ৪০ থেকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা। আর উপরি হিসেবে ফের একটি বছরের টাকা আদায় করে। এসব নিয়ে কথা বললেই ফেল করার হুমকি ও চাপ আসে। তাই এসব বন্ধের জন্যই আমাদের এই আন্দোলন। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে।’
ইত্তেফাক/সেতু
