চট্টগ্রামে চিকিত্সক সংকটে স্বাস্থ্য খাতে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। গ্রামের অধিকাংশ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিত্সক শূন্যতা বিরাজ করছে। এতে গ্রামের দরিদ্র মানুষ সরকারি চিকিত্সা সুবিধা পাচ্ছে না। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পদায়ন করেও চিকিত্সক রাখা যাচ্ছে না। উচ্চপর্যায়ে তদবির করে বদলি হয়ে যাচ্ছেন তারা। এর ফলে গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে ৭২টি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে ১২৬টি। এদের মধ্যে ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৪৯টি ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৬৭টি মেডিক্যাল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। এসব চিকিত্সা কেন্দ্র প্রত্যন্ত গ্রামে নির্মাণ করা হয়েছে । যাতে গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী সহজে চিকিত্সা সেবা পেতে পারে। গতবার ৩৩তম বিসিএস থেকে চিকিত্সক নিযোগের পর গ্রামের এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমবিবিএস চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে গ্রামের মানুষ চিকিত্সা নিয়ে সুফল পেয়েছেন। কিন্তু নিয়োগ লাভের ২ বছর পর এসব চিকিত্সক নানান অজুহাত দেখিয়ে গণহারে বদলি হতে থাকেন। এতে গত কয়েক মাসের মধ্যে গ্রামে ও উপজেলা সদর হাসপাতালগুলো চরম চিকিত্সক সংকটে পড়েছে। মানুষ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা সদর হাসপাতালগুলোতে কর্মরত চিকিত্সক থেকে কিছু অন্য জেলায় বদলির জন্য বলা হচ্ছে। কারণ দেশের এমন উপজেলা হাসপাতাল রয়েছে যেখানে মাত্র ২ জন চিকিত্সক রয়েছেন। চট্টগ্রামে উপজেলা সদর হাসপাতালগুলোতে তুলনামূলক বেশি চিকিত্সক রয়েছেন। তবে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে মেডিক্যাল অফিসারের চরম সংকট রয়েছে। খুব শীঘ্রই নতুন করে ৫ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়া হবে।’
চট্টগ্রাম শহরের অতিনিকটে অবস্থিত পটিয়া উপজেলা সদর হাসপাতাল। এই উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ১৬টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, গত কয়েক মাসের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো চিকিত্সক শূন্য হয়ে পড়েছে।
হাটহাজারী উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫টি উপ-স্বাস্থ্য ও ৯টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে অধিকাংশ স্বাস্থ্য কেন্দ্র চিকিত্সক শূন্য। এদিকে গ্রামের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতাধীন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে জনবল সংকটে স্বাস্থ্য সেবা আরো নাজুক। জেলার ১২৬টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে ৭৮টি পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা ও ২৯টি সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
