মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই মঙ্গলবার রাতে তেজগাঁওয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা-কর্মী আশপাশের এলাকায় ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ইয়াবা বিক্রির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রলীগের মেহেদী গ্রুপ ও সাইফুল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। এর আগে ২০০৯ সালের ২৭ মে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের আলী জিন্নাহ ও মোহাম্মদ মোহসীন শেখ নামে ছাত্রলীগের দুই নেতা নিহত হয়।
বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার আগে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে তুচ্ছ কারণে মাসের পর মাস সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটত। ওই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার পর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হয়। দীর্ঘ ৮ বছর পর মঙ্গলবার রাতের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আগের মতো হতে যাচ্ছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা ধারণা করছে। তেজগাঁও পলিটেকনিকের ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা-কর্মীরা প্রতি মাসে কোটি টাকার ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আব্দুর রশিদ বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় স্থানীয় অজ্ঞাত পরিচয় ৮শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ৩ যুবককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিয়ে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউল্লাহ শফি দুই পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করার জন্য বৈঠক করেছেন।
মঙ্গলবার বিকালে পলিটেকনিক মহিলা হোস্টেলের সামনে ইভটিজিংয়ের জের ধরে চার ঘন্টা ধরে শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ইভটিজিংয়ের শিকার বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে ওই ছাত্রী একজন ছাত্রলীগ নেত্রী। ওই দিন বিকালে মহিলা কলেজ হোস্টেলের সামনে এমন ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রলীগের সাইফুল গ্রুপের কর্মী-সমর্থকরা সাকিব নামে স্থানীয় যুবককে মারধর করে। সাকিব ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ইয়াবা বিক্রিতে বাধা দিয়েছিল অথবা মাদক বিক্রির কমিশনের টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে মারধর করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনার প্রতিবাদ করে। তখন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সাকিবের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ আনে।
২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউল্লাহ শফি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠকে উভয় পক্ষের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ইভটিজিংয়ের জের ধরে ঘটেনি। মাদক ব্যবসায় শিক্ষার্থী হোক আর স্থানীয় বাসিন্দা হোক— যেই জড়িত থাকবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেগুনবাড়ি এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাস থেকে ইয়াবা বিক্রির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ছাত্রলীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এ সব নেতা-কর্মীরা স্থানীয় যুবকদের সহায়তায় ইয়াবা বিক্রি করে থাকে।
ইত্তেফাক/আনিসুর
