চবিতে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংঘর্ষ, আহত ২২

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:১৮
 
ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‌্যালিতে দাঁড়ানো নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে ২২জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে সংঘর্ষের সময় সোহরাওয়ার্দী ও শাহজালাল হলের ১০টি কক্ষ ভাংচুর করা হয়েছে।
 
ছাত্রলীগের এ গ্রুপ দুটি চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারী। তারা ক্যাম্পাসে ভিক্স ও সিক্সটি নাইন গ্রুপ নামে পরিচিত।
 
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে র‌্যালি শুরু করার সময় সামনের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে দুগ্রুপের সংঘর্ষ বাঁধে। এ সংঘর্ষ পরে সোহরাওয়ার্দী, শাহজালাল ও শাহ আমানত হলে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুপক্ষের ২২জন আহত হন।
তারা হলেন, সিক্সটি নাইন গ্রুপের মুগ্ধ, রয়েল চাকমা, জয় বিশ্বাস, মামুন, হালিম, মিঠু, আশিক, জিসান গাজী, মিল্টন, আজীজ, সায়ীদ আহম্মেদ, শাকিব, আজিজুল, শুভ,  ওবায়দুল, আলিম ও ফোরকান । অন্যদিকে ভিক্স গ্রুপের নাজমুল সামির, খায়রুল আলম, তানবীর আহম্মেদ রাজিব, রাহাত ও ইমরান।
 
সংঘর্ষের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা মনসুর আলম বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতে তাদের এক জুনিয়র আমাদের এক সিনিয়য়ের গায়ে হাত তুলে। এটা নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের উপর ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। 
 
এ সময় তিনি সহকারী প্রক্টর নিয়াজ মোরশেদ রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, নিয়াজ মোরশেদ রিপন ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশ দিয়ে আমাদের গ্রুপের কর্মীদের উপর হামলা চালান।
 
অন্যদিকে চবি ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক ও ভিক্স গ্রুপের নেতা মিজানুর রহমান বিপুল বলেন, সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীদের সঙ্গে র‌্যালিতে দাঁড়ানো নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আমাদের এক জুনিয়র কর্মীকে সিক্সটি নাইনের ছাইকুল নামের একজন মারধর করে। মারধর করার পরে আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয় এবং আমরা হলে চলে আসি। পরে তারা সোহরাওয়ার্দী হলের ৪টি কক্ষ ও শাহজালাল হলের ছয়টি কক্ষ ভাংচুর করে। এ সময় নাজমুল নামের আমাদের এক জুনিয়র কর্মীকে দায়ের উল্টা পিঠ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
 
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের অফিসার ড. আবু তৈয়ব বলেন, কিছু শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় এসেছিল তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নাজমুল সামি নামের একজনের অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
 
সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র বলেন, পুলিশ ও প্রক্টররিয়াল বডির উপস্থিতি বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। যে কোন ধরনের অপ্রতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য ক্যাম্পাসে প্রচুর পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি