বাঘায় শৈত্যপ্রবাহে ক্ষতির মুখে কৃষক

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৩:০৮
 
গত দুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ কারণে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। বেড়েছে শীতের তীব্রতা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পাশা-পাশি বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এর মধ্যে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন আম, আলু, সরিষা, ধানের চারা, মসুর ও সবজি চাষিরা। কনকনে শীতে রাজশাহীর বাঘা সীমান্ত এলাকার চরাঞ্চলের লোকজন কাঁপছে থর-থর করে। দেখা দিয়েছে শীতজনিত রোগ-বালাই। ইতোমধ্যে মারা গেছে কয়েকজন বয়স্ক মানুষ।
 
স্থানীয় লোকজন জানান, একটানা শৈত্যপ্রবাহ এবং পৌষের কন-কনে শীতের কারণে রাজশাহীর সীমান্তবর্তী উপজেলা বাঘা-সহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ এবং ফসল উৎপাদনকারীরা। বিশেষ করে  আম, আলু, ধানের চারা, মসুর,সরিষা ও সবজি চাষিরা চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। তারা বলছেন, যদি এ ভাবে একটানা সত্য প্রবাহ চলতে থাকে তাহলে  রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল আমের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
 
রাজশাহীর আম প্রধান অঞ্চল বাঘা উপজেলার কৃষক আলী আকবর বলেন, এখন আমগাছে মুকুল হওয়ার সময়। কিছু-কিছু বাগানে যথারীতি মুকুল আসতে শুরু করেছে। এ কারণে আমরা কৃষকরা বাগানে পোকা-মাকড় বালাই কীটনাশক প্রয়োগ করতে শুরু করেছি। যাতে করে গাছে গরম ধরে এবং দ্রুত মুকুল বের হয়। তিনি বলেন, যদি এভাবে শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকে তাহলে ঘন কুয়াশায় গাছের পাতা-সহ মুকুল কাল হয়ে যাবে ।এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আম চাষিরা।
 
তথ্য মতে, বুধবার রাত থেকে রাজশাহী সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়তে শুরু করেছে  ঘন কুয়াশা। বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, উত্তর  অঞ্চলের তাপমাত্রা ছিল ৬ থেকে ১০ ডিগ্রীর  মধ্যে। সঙ্গে যুক্ত হয় হিমালয় ছুঁয়ে আসা হিমশীতল হাওয়া। এতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ। বিশেষ করে রাজশাহী এলাকার যে সমস্ত  এলাকায় নদী রয়েছে  সেই এলাকার মানুষ গুলো শীতে থর-থর করে কাঁপতে শুরু করেছে। অনেকেই খড়কোঠা জ্বালিয়ে তাপ গ্রহণ করছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। দুর্ভোগ বেড়েছে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষদের। দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগ-বালাই।
 
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, শীতজনিত কারণে গত দুই দিনে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ডাবল হয়েছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্ক লোকজন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এদের অনেকেই ঠাণ্ডাজনিত ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্ট সমস্যা নিয়ে  হাসপাতালে আসছেন।
 
বাঘা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, 'শৈত্যপ্রবাহের কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়াটায় সভাবিক। তবে এ অবস্থা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। আমরা প্রতি শীত মৌসুমে এ রকম অবস্থার মুখোমুখি হই।' তিনি কুয়াশা জনিত আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করতে কৃষকদের  নানা পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান।
 
ইত্তেফাক/জামান