ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কুমেক বন্ধ

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:২৯
 
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে (কুমেক) আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০জন ছাত্র আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কলেজ হোস্টেলে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 
 
কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শুক্রবার ভোর থেকে শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করেছেন। এ ঘটনা তদন্তে কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।   
 
জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের ডা. আবদুল হান্নান ও ডা. হাবিবুর রহমান পলাশ গ্রুপের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র অবস্থায় আবাসিক হোস্টেলে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এ সময় দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে অন্তত ১০জন ছাত্র আহত হন বলে জানা যায়। এদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় তৌফিক ও ইফরান নামের দুই ছাত্রকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের কুমেক ও নগরীর বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 
 
এদিকে হামলায় মারাত্মক আহত ৫ম বর্ষের ছাত্র তৌফিকের মৃত্যুর গুজব শুক্রবার সকালে ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। তবে তৌফিকের বন্ধুরা জানান, তার অবস্থা সংকটাপন্ন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তৌফিককে ঢামেক থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। 
 
শুক্রবার দুপুরে মুঠোফোনে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. মহসিন উজ-জামান জানান, গভীর রাতে ছাত্ররা সংঘর্ষে লিপ্ত হলে কিছু ছাত্র আহত হয়েছে। আহতদের ঢাকা ও কুমিল্লায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনা তদন্তে কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম ও হোস্টেল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে সব আবাসিক হোস্টেল ত্যাগ করেছে। 
 
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. সালাহ উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  
 
ইত্তেফাক/আরকেজি