পড়ছে ঘন কুয়াশা। তার সাথে বইছে হিমেল হাওয়া। সূর্যটা যেন অভিমান করে লুকিয়ে আছে। দেখা পাওয়া দুষ্কর। গত ২দিন যাবত তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমছে। এক কথায় হাড় কনকনে শীত বিরাজমান ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায়। মেঘনা, তেতুলিয়ার বেড়িবাঁধ আর বিদ্যা সুন্দরী দিঘির পাড়ে বসবাসরত দরিদ্র কিশোর-কিশোরী আর বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের অবস্থা বেশ করুন। শীতের হিম বাতাসকে ঠেকানোর জন্য তার নিরন্তর সংগ্রাম করছে। একটু গরম কাপড় মড়ে ঠিক ঠেকানোর জন্য তারা ব্যাকুল। সকাল বেলা অনেকে আর খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। ঠাণ্ডা জনিত রোগে ভুগছে শিশু ও বৃদ্ধরা। শ্রমজীবীদের কমছে কর্ম সংস্থান।
সর্বস্ব হারিয়ে বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর শিশু-কিশোররা রাস্তায় পড়ে থাকে অনাদরে-অবহেলায়। যাদের পরনে অসংখ্য জোড়াতালি দেয়া ময়লা ছেঁড়া পোশাক। এখানে সেখানে খুঁজে বেড়ায় পরের বেলার এক মুঠো ভাত যোগার করার জন্য। শীত এলে শুরু হয় ওদের নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আরেক সংগ্রাম। শীত নিবারণের জন্য সবাই মিলে কুণ্ডুলি পাকিয়ে বসে খড়কুটা দিয়ে আগুন জ্বেলে একটু গরম হওয়ার নিরন্তর চেষ্টা করে ওই সমস্ত ভুক্তভোগীরা। শীতের এই সময়টা ওদের কাছে অনেক কষ্টের।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার আনাচে-কানাচে প্রায় সর্বত্রই টোকাইদের দেখা যায়। তারা হাতে একটি চটের বস্তা নিয়ে বোতল, কাগজ, লোহা অথবা অন্য কিছু কুড়ায়। উপজেলার কুঞ্জের হাট বাজারের শিশু সাগর বলে, 'রাস্তায় কুড়াইয়া যা পাই তা বেইচা হেখান থাইকা টাকা দিয়া কিছু কিন্না খাই, শীতের মোডা কাপড় কিনার পয়সা পামু কই।' পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের আরেক শিশু আজাদ। সে বলে, 'সারা দিন এক বেলা খাইবার আশায় বাড়িতে বাড়িতে ঘুরি হেডাই পাইনা আমাগোরে শীতের পোশাক দিবো কে?' বোরহানউদ্দিনের অন্তত ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের উপর অসংখ্য ছিন্নমূল কিশোরদের ঝুপড়ি মতো ঘরে বসবাস।
শীতের সাথে সংগ্রাম করে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেককে। একদিকে শৈত্যপ্রবাহ অন্যদিকে মেঘনা-তেতুলিয়া থেকে প্রবাহিত হিম বাতাস ওই ঘরগুলোতে বসবাসকারীদের নিত্যসঙ্গী। হাসাননগর ইউপি'র ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন থেকে ওই রকম কোন বরাদ্দ নেই। এই বাস্তবতায় ওই টোকাই শিশু কিশোরদের মতো সমগ্র গ্রাম বাংলায় অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠা অসংখ্য শিশুরা প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটায়। ওদের প্রতিনিয়ত শীতের সাথে যুদ্ধ করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জহিরুল ইসলাম শাহিন বলেন,হঠাৎ ঠাণ্ডা শিশুদের জন্য সমস্যা। তাই মায়ের সচেতন হবে শিশুদের যাতে ঠাণ্ডা না লাগে সে ব্যবস্থা গ্রহণে।
ইত্তেফাক/জামান
