বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাবুগঞ্জের নতুনহাট পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার মহাসড়ক অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটিতে প্রায়ই ঘটছে অপহরণ, ছিনতাই, রাহাজানি। সম্প্রতি ভূয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এমন একাধিক ঘটনায় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা এজন্য গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশকে দায়ী করেছেন।
গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের কায়েস হাওলাদার ও তার মা খোদেজা বেগম রড় সিমেন্ট কেনার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। ওইদিন দুপুরে তারা সোনালী ব্যাংক গৌরনদীর টরকী বন্দর শাখা থেকে লোনের ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। মা ও ছেলে ওই টাকা নিয়ে ইজিবাইক (ব্যাটারী চালিত) যোগে নির্মাণ সামগ্রী কেনার জন্য ভূরঘাটা’র উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলা নিলখোলা ব্রিজের ঢালে পৌছলে ৬ থেকে ৭ জন ছিনতাইকারী একটি চক্র সাদা মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১১-৮১৪৯) আড়াআড়ি করে ইজিবাইকটি ব্যারিকেড দেয়। এ সময় ছিনতাইকারীরা ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ফিল্ম স্টাইলে ঋণগৃহীতা কায়েস হাওলাদার ও তার মা খোদেজা বেগমকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।
পরবর্তীতে গৌরনদী- ভূরঘাটা-কোটালীপাড়া সড়কে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের সাথে থাকা ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নেয় তারা। এরপর ছিনতাইকারীরা মা ও ছেলেকে কোটালীপাড়া থানার পিরারবাড়ি এলাকায় সড়কের পাশে ফেলে রেখে মাইক্রোবাসটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কোটালীপাড়া থানার ভাঙ্গারহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস.আই আলী আকবরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ধাওয়া করে বহরাবাড়ি গ্রামের ৩ নম্বর ব্রিজ এলাকা থেকে মাইক্রোবাসসহ ছিনতাইকারী ভূয়া ডিবি পুলিশের ৫ জনকে আটক করে। এ সময় ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে ২৭ হাজার টাকা, হাতকড়া, ডিবির পোশাক, ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের মৃত আঃ হাকিম হাওলাদারের ছেলে কায়েস হাওলাদার বাদি হয়ে আটককৃত ওই ভূয়া ডিবি পুলিশের ৫ জনের নামোল্লেখ করে ৭ ছিনতাইকারীকে আসামি করে বৃহস্পতিবার রাতে কোটালীপাড়া থানায় একটি অপহরণ ও ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।
এর আগে পার্শ্ববর্তী কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের চরআইকান্দি গ্রামের দক্ষিণ কোরিয়া ফেরত পোল্ট্রি ব্যবসায়ী আঃ জলিল তালুকদার ন্যাশনাল ব্যাংক উপজেলার টরকী বন্দর শাখা থেকে গত ২১ ডিসেম্বর দুপুরে নিজ একাউন্ট থেকে চেকের মাধ্যমে সাড়ে ৩ লাখ টাকা উত্তোলণ করেন। উক্ত টাকা নিয়ে ইজি-বাইকে (ব্যাটারী চালিত) গৌরনদী বন্দরের উদেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলা কসবা আল্লাহর মসজিদ বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে ৬ থেকে ৮ জন আরোহীর একটি সাদা মাইক্রোবাস আড়াআড়ি করে ইজি বাইকটি ব্যারিকেড দেয়। এ সময় আরোহীরা ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ফিল্মস্টাইলে ব্যবসায়ী জলিলকে হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরবর্তীতে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে নিয়ে মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জলিলের সাথে থাকা ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা ছিনতাই করে। এরপর ছিনতাইকারীরা ব্যবসায়ী জলিলকে কোটালীপাড়া উপজেলার ওয়াপদা হাটের কাছে সড়কের পাশে ফেলে দ্রুত মাইক্রোবাসনিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আঃ জলিল তালুকদার বাদি হয়ে কোটালীপাড়ায় আটক ওই ৫ জনের নামোল্লেখসহ ৮ ছিনতাইকারীকে আসামি করে গতকাল শনিবার বিকালে গৌরনদী মডেল থানায় একটি অপহরণ ও ছিনতাই’র মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী থানার এসআই সগীর হোসেন জানান, পুলিশ এ চক্রটির বিষয়ে সতর্ক নজর রেখেছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মহাসড়কে ডিবির পোশাক পড়া কয়েকজনকে দেখে চ্যালেঞ্জ করেন। এসময় তারা দ্রুত মাইক্রোবাস নিয়ে ওই স্থান থেকে সটকে পরে। তিনি বিষয়টি আশপাশের সকল থানা পুলিশকে অবহিত করেন। যার ফলে একাধিকবার ছিনতাইকারীদের আটকানোর চেষ্টার পর কোটালীপাড়ায় তারা ৫জন ধরা পরে। পরে কোটালীপাড়ায় তারা ধরা পড়ে। ৫জনকে ওই মামলায় দৃশ্যত গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করবেন।
এসআই সগির বলেন, মহাসড়ক দেখার দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের। কিন্তু তারা তা কতটুকো দেখছে তা তার জানা নেই।
এব্যপারে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি শাহাদাত হোসেন বলেন, ভুরঘাটা থেকে বাবুগঞ্জের নতুনহাট পর্যন্ত মহাসড়ক তার থানার আওতাধীন। কিন্তু হাইওয়ে থানাকে বিশাল মহাসড়ক নিয়ন্ত্রণ করতে হয় মাত্র ১টি যানের মাধ্যমে। জনবলও পর্যাপ্ত নেই। এরপরও সার্বক্ষনিক তারা মহাসড়ক টল দিচ্ছেন। ছিনতাই, ডাকাতির ঘটনা মহাসড়কে হয় না। ডিবি পরিচয়ে সম্প্রতি মহাসড়কে যে ঘটনা ঘটেছে এমন খবর তাদের জানা নেই। খবর পেলে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করতেন।
ইত্তেফাক/নূহু
