নাটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে পিরামিড সদৃশ স্তূপ

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:২৭

নাটেশ্বরে সদ্য আবিস্কৃত বাংলাদেশের সর্ববৃহত্ পিরামিড আকৃতির বিশাল নান্দনিক নিদর্শন সবার মনে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০১০ সাল থেকে ঐতিহ্য অন্বেষণ (প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ ) বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা কাজ শুরু হয়। রামপাল   ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামে (প্রাচীন বজ যোগিনী) বিক্রমপুরী বৌদ্ধ বিহারের ৬টি ভিক্ষু কক্ষ, একটি মন্ডপ ও পঞ্চস্তূপ আবিষ্কৃত হয়। ২০১৩ সাল থেকে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নাটেশ্বর দেউলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ চলমান। প্রায় ১০ একর ঢিবিতে উত্খনন কাজের বিশালতা ও সংরক্ষণের কথা চিন্তা করে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন চীনের হুনান প্রাদেশিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউটকে আমন্ত্রণ জানায়। ২০১৩-২০১৮ মেয়াদে যৌথভাবে পাঁচ হাজার বর্গমিটারের বেশি এলাকায় উত্খনন হয়েছে এবং ইতিহাস পুনর্গঠনের তাত্পর্যপূর্ণ প্রত্নবস্তু আবিষ্কৃত হয়েছে। বাংলাদেশের সর্ববৃহত্  পিরামিড আকৃতির নান্দনিক স্তূপ, ৩টি অষ্টকোণাকৃতির স্তূপ; ইট-নির্মিত অতি সুন্দর ৪টি রাস্তা, চারদিকে চারটি স্তূপ হলঘর পরিবেশিষ্টত বাংলাদেশের সর্ববৃহত্ অষ্টকোণাকৃতির কেন্দ ীয় স্তূপ পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন পরিমাপের ৪টি কক্ষ এবং অন্যান্য স্থাপত্য নিদর্শন উন্মোচিত হয়েছে।

সদ্য আবিস্কৃত প্রাচীন বৌদ্ধ নগরীর নানা নির্দশন আবিস্কার বিক্রমপুরের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করবে। শনিবার নাটেশ্বর গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও খননে আবিস্কৃত প্রত্নবস্তু নিয়ে প্রেস কনফারেন্সে এই ঘোষণা দেন বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্মিক খনন ও গবেষনা প্রকল্প ও অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন। এতে প্রধান অতিথির ভাষন দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এমপি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম, অধ্যাপক ড, সুফী মুস্তাফিজুর রহমান, চীনা গবেষক অধ্যাপক চাই এবং গেস্ট অব অর্নার হিসাবে অংশ নেন মি. জিনসহ চীনা একটি গবেষক দল।  

অতিথিবৃন্দ আবিস্কৃত পুরাকীর্তি ঘুরে দেখেন। তারা  নিদের্শনা দেখে অভিভুত হন। অর্থমন্ত্রী এই কাজে তার সহযোগিতার আশ্বাসের কথা বলেন। তিনি বলেন, মহেঞ্জোদারো’র আদলে নাটেশ্বর বৌদ্ধ নগরীকে সংরক্ষণের জন্য আগামী বাজেটে বরাদ্দ থাকবে। সেই লক্ষে একটি প্রকল্প করে নাটেশ্বরের সাথে খনন কাজে সম্পৃক্ত একটি টিম মহেঞ্জোদারোতে পাঠানো হবে। তারা যাতে প্রশিক্ষত হয়ে আসতে পারে। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রত্নতত্ত্ব ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে। আমরা নাটেশ্বর এসে দেখতে পেলাম আমাদের পূর্ব পুরুষেরা কতটা উন্নত জীবন যাপন করতেন। আমরা সন্ধান পেলাম দেড়শ ফুট রাস্তার। মানে এটা তখনকার সময়ের রাজপথ। তখন রাস্তা ছিল ছোট । এটাকে আমাদের সংরক্ষন করতে হবে। সদ্য আবিস্কৃত পুরাকীর্তির পাশেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেয়।

ইত্তেফাক/নূহু