বরিশাল ও ঝালকাঠি মিনিবাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে পাঁচদিন ধরে বরিশাল থেকে সরাসরি ৬ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত সমাধানে কোনো অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে একে অপরকে দুষছেন। তবে ভোগান্তির বিষয়টি দ্রুত সমাধান চান যাত্রীরা।
তবে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি বরিশাল নগরীর শেষপ্রান্তে ঝালকাঠি জেলার আওতাধীন রায়াপুর নামকস্থান থেকে নিয়মিত বাস চলাচল করেছে। এতে করে নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে বিকল্প পরিবহনে ৩ কিলোমিটার দূরে গিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
ঝালকাঠি বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই ৬ রুটে বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বাগেরহাট সমিতির বাস সমন্বয় করে চলাচল করলেও বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ঝালকাঠি সমিতির কোনো বাস চলতে দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলাধীন ৮ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। ওই ৮ কিলোমিটার সড়ক বরিশাল ও পটুয়াখালী মালিক সমিতি ব্যবহার করলেও ঝালকাঠি মালিক সমিতির কোনো বাস চলতে না দেয়ায় সেখানকার ন্যায্য হিস্যার দাবি তোলেন তারা। আর দাবি আদায়ের আল্টিমেটাম অনুযায়ী তারা গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বরিশাল নগরের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস চালানো বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে দুইদিন পরে ২০ ডিসেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এক সভার মাধ্যমে এ বিষয়ে সমাধানের জন্য বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। কিন্তু ওই দিনের সিদ্ধান্তের মধ্যে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি বরিশাল সার্কিট হাউজে বিভাগের ৬ জেলার বাস মালিক সমিতির বসার কথা থাকলেও বরিশাল রূপাতলীস্থ বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কেউ সেখানে সেদিন আসেনি। পরের দিন থেকে দ্বিতীয় দফায় তারা বরিশাল মালিক সমিতির কোনো বাস ঝালকাঠিতে ঢুকতে দেয়নি এবং ঝালকাঠির কোনো বাস বরিশালে আসতে দেননি।
এদিকে, ৫ দিন অতিবাহিত হলেও বরিশালের পক্ষ থেকে কোনো সমাধানের সিদ্ধান্ত না নেয়ায় তারাও চুপচাপ রয়েছে বলে জানান ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির নেতারা। বরিশাল মিনিবাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পরবর্তীতে বৈঠকে বসতে চাইলেও তাতে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে জানান বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন। তিনি জানান, ওই রুটগুলোতে তাদের মালিকানাধীন ২৭টি বাস এখন অন্যত্র চালানো ছাড়া কোনো পথ দেখছেন না তারা।
ইত্তেফাক/ইউবি
