বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি

তৃতীয় দফায় দুদকের মুখোমুখি বাচ্চু

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:৩০
বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা তদন্তে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুকে তৃতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার দুপুরে তিনি দুদক কার্যালয়ে হাজির হলে তাকে টানা আড়াই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে বাচ্চুকে গত ৪ ডিসেম্বর ও ৬ ডিসেম্বর দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। এর মধ্যে গত ৬ ডিসেম্বর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে তৃতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা ছিল। ওই দিন তিনি ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে এক মাস সময় চেয়ে দুদকে লিখিত আবেদন করেন। তবে দুদক তার আবেদন নাকচ করে দেয়। 
 
প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য, বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণ আসার পর মামলা তদন্তের জন্য দুদক টিম গত ২২ নভেম্বর ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুসহ ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠায়। এদের মধ্যে বাচ্চু বাদে সবাইকে ধারাবাহিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। 
 
দুদক সূত্র জানায়, গত রবিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কমিশন থেকে দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশটি তার কাছে পাঠানো হয়। ওই নোটিশের প্রেক্ষিতে আজ তিনি কমিশনে হাজির হন। নোটিশে সকাল ৯টায় দুদকের প্রধান কার্যলয়ে তাকে হাজির হতে বলা হলেও তিনি দুপুর ২টার দিকে কমিশনে হাজির হন। এরপর ২টা ২০ মিনিট থেকে বিকাল পৌণে ৫টা পর্যন্ত টানা আড়াই ঘণ্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও এম জায়েদ খানের নেতৃত্বে একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এদিকে সোমবার দুপুরে তিনি দুদক কার্যালয়ে আসলে বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকরা কথা তাকে নানা প্রশ্ন করলেও তিনি কোন উত্তর দেননি। তিনি নো নো বলতে বলতে কমিশনের জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের দিকে দ্রুত চলে যান। পরে বিকাল পৌণে পাঁচটার দিকে তিনি একইভাবে দ্রুত দুদক কার্যালয় থেকে বের হয়ে চলে যান। সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলেননি।
 
দুদক সূত্র জানায়, বেসিক ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় মোট ৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলাগুলোতে ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা রযেছেন ২৬ জন। এর মধ্যে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে ৪৮ মামলায় , ডিএমডি ফজলুস সোবহান ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থ ২৩টি, আইটি শাখার মো. সেলিম আটটি এবং বরখাস্ত হওয়া ডিএমডি এ মোনায়েম খান ৩৫টি মামলার আসামি। তবে কোনো মামলায় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুরসহ পরিচালনা পর্ষদের কাউকে আসামি করা হয়নি। ওই মামলাগুলোর বাকি ১৩০ জন আসামি হলেন ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। 
 
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। দুদক ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। তবে বাকি আড়াইহাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলমান। অনুসন্ধান শেষে সেগুলোর ব্যাপার আইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এমআই