বাতির বদলে আলোক গাছ!

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:১০
 
প্রাকৃতিক পরিবেশ সুস্থ ও নির্মল রাখতে গাছের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস, যানবাহন ও কলকারখানা থেকে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড প্রতিনিয়ত আমাদের পরিবেশ দূষিত করছে। গাছ সেই কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং বিনিময়ে অক্সিজেন দিয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য রক্ষা করছে। গাছের নির্গত করা অক্সিজেন আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি। পরিবেশ ভারসাম্য, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিহত করে পরিবেশ সুস্থ ও নির্মল রাখতে গাছের বিকল্প নেই। গাছ যে মানুষের পরম বন্ধু তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে। 
 
এবার রাতের বেলা অন্ধকার দূর করতে বিশেষ পদ্ধতি আলো সরবরাহ করবে গাছ! যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসেসুচেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক দল বিজ্ঞানী বিশেষ গাছের পাতার মাধ্যমে আলোক উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। আর এই গাছের নাম দিয়েছেন আলোক গাছ, যে গাছ রাতের বেলা অন্ধকার দূর করতে সক্ষম হবে। তবে এই আলো খুব বেশি উজ্জ্বল হবে না।
 
এমআইটির বিজ্ঞানীরা আলোক গাছ তৈরির জন্য বেছে নিয়েছেন কলমি জাতীয় গাছ। প্রথমে সেই গাছের পাতাকে তারা ‘ন্যানোপার্টিক্যালস’ নামের বিশেষ এক ধরনের কেমিক্যালের মধ্যে চু্বিয়ে রাখেন। এরপর উচ্চ চাপে রাখা হয় সেগুলোকে। উচ্চচাপে রাখার ফলে ন্যানোপার্টিক্যালস নামের সেই উপাদান পাতার পত্ররন্ধ্রের মধ্যে ঢুকে যায়। এরপর সেই পাতা লুসিফারেন নামের এক ধরনের এনজাইম নির্গত করে যা কিনা পাতার মধ্য থেকে উজ্জ্বল আলো নির্গত করে। এরপর স্বয়ংক্রিয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে গাছের পাতা আলোর জোগান দিতে থাকে।
 
বোতলের চিনির পানির মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হয় পাতাকে। আর দিনের বেলা রাখা হয় সূর্যের আলোতে। গবেষকরা বলেন, আমরা গাছের মধ্যে এনার্জি সঞ্চিত করে বিশেষ পদ্ধতিতে সেই এনার্জিকেই আলোতে রূপান্তরিত করে থাকি। তবে এই আলো প্রচলিত বিদ্যুৎ বাতির আলোর চেয়ে অনেক হালকা। তবে এটি একটি দারুণ সূচনা। ভবিষ্যতে হয়তো রাস্তার এক একটি গাছ রাতের অন্ধকার দূর করতে ল্যাম্প পোস্টের ভূমিকা পালন করবে। সিএনএন
 
ইত্তেফাক/আনিসুর