ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত বিজয়-মিঠুন

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:৪৭
মোহাম্মদ মিঠুনের চেয়ে এনামুল হক বিজয়ের জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতাটা বেশি। তবে একটা জায়গায় দুজনই এবার এক—অনেকদিন পর ফিরলেন জাতীয় দলে। সেই ফেরার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে বিজয় ও মিঠুন দুজনই বললেন, তাদের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে এই ফেরার মাধ্যমে। মিঠুন যেমন বলছিলেন, ‘আসলে দল থেকে বাদ পড়া সব সময়ই কষ্টের। কেউই চায় না যে দল থেকে বাদ পড়তে। আর বাংলাদেশ দলে খেলা এবং পারফর্ম করা সবারই স্বপ্ন থাকে। এখন আবার সেই স্বপ্নটা এসেছে তাই ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব খুশি।’
 
আবার বিজয়ের কাছে এই ফিরতে পারাটা হলো একটা চ্যালেঞ্জ জয় করতে পারার মতো, ‘হতাশার চেয়ে বেশি ছিল চ্যালেঞ্জ। আমার জন্য ঘরোয়া পর্যায়ের প্রত্যেকটা আসরই চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রিমিয়ার লিগেই যেমন, শেষ হলেই কথা উঠত বিজয় কত রান করল। বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও একই কথা। বিপিএলেও সবাই দেখেছে কত করলাম। এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। নিজেকে আরো ভালো কিছুর জন্য অনুপ্রাণিত করা। ভালো খেলতে না পারাই হতাশার। জাতীয় দলে সবাই যখন ভালো খেলে, তখন আসলে নিজের জন্য হতাশ লাগে না। বরং দেশ ভালো খেললে ভালো লাগে। আমি সব সময় বড় স্বপ্ন দেখি। এ কারণে হয়ত হতাশ লাগে না।’
 
মিঠুন মনে করেন, তার এই ফিরতে পারার পেছনে বড় একটা ভূমিকা রেখেছে এবারের বিপিএলে নিজের পারফরম্যান্স। তিনি বলছিলেন, ‘আমার তো মনে হয় আমার বিপিএলের পারফরম্যান্স পুরোটাই সাহায্য করেছে। কারণ ওখানে আমার অবদান ছিল পাশাপাশি আমাদের টিম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আমি লাকি যে আমার দলের যে অধিনায়ক ছিল বাংলাদেশ দলের উনিই অধিনায়ক। উনি আমার উপরে আস্থা রেখেছে। উনি আমার উপরে আস্থা রেখেছে বলেই আমি আজ এখানে। উনি আস্থা না রাখলে আমি এখানে থাকতে পারতাম না।’
 
মিঠুন জাতীয় দলে নিজের একটা লক্ষ্যও ঠিক করে ফেলেছেন, ‘দেশের হয়ে যদি একটা ম্যাচ জেতাতে পারি তাহলে এর থেকে ভালো কিছু আর হতে পারে না। তারপরও কখন আমি কোন পরিস্থিতি পাব কিংবা কিভাবে আমি নিজের পারফরম্যান্সে দলের হয়ে অবদান রাখতে পারব এটা এখন বলতে পারব না। অবশ্যই সুযোগ আসলে ম্যাচ জেতানোর চেষ্টা করব। যদি খেলি- যতটুকু অবদান রাখা সম্ভব, এর থেকেও বেশি কিছু করার চেষ্টা থাকবে।’
 
বিজয় আবার বলছিলেন, তার ফেরার পেছনে তার অভিজ্ঞতাটা একটা বড় ভূমিকা রেখেছে। নিজে নিজের ব্যাটিং নিয়ে কাজ করেছেন। ফলও পেয়েছেন। দুই দুটো ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন এবার। তবে অভিজ্ঞতাটাকেই এগিয়ে রাখছেন তিনি, ‘আমার মনে হয় অভিজ্ঞতার একটা ব্যাপার আছে। লম্বা কিছু ম্যাচ খেলেছি। সম্ভবত ২০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছি। ওয়ানডেও খেলেছি ৪০টার মতো। এটা একটা অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া ওয়ানডে লিগে বা প্রথম শ্রেণির লিগে দলকে জেতানো বা জেতা দলে থাকা; এটাও একটা দারুণ অভিজ্ঞতা। ছোটখাটো আরো অনেক কিছু থাকে। ব্যাটিংয়ের দক্ষতা বাড়ানো, কিপিংয়ে কিছু কাজ করা; আসলে নিয়মিত খেলার মধ্যে থাকলে উন্নতির সুযোগটাই বেশি থাকে। আমার কাছে মনে হয়, উন্নতি অনেক বেশি হয়েছে। ইনিংসগুলো বড় হচ্ছে। দুইটা ডাবল সেঞ্চুরি করেছি। সব কিছুতেই নিজেকে আগের থেকে ভালো লাগছে।’
 
ইত্তেফাক/কেআই