ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত ভোলার কৃষকেরা

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:০০
 
আমন ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত ভোলা জেলার কৃষক-কৃষাণীরা। ক্ষুদ্র কৃষকেরা এখন ধান সিদ্ধকরা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছে।সুবিধামতো জায়গা কিংবা ধান ক্ষেতে টং (থাকার ঘর) বানিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে চাল তৈরি করছে তারা। বিশ্রাম নেওয়ার সময় নেই তাদের। আমনের বাম্পার ফলন আর বাজারদর বর্তমানে ভালো থাকায় তারা বেশ খুশি।
 
অবশ্য ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ের হঠাৎ বৃষ্টি তাদের কর্তনকাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। তবে কৃষকরা জানায়, ভোলা-বরিশাল ব্রিজটি হলে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক ক্রেতা বোরহানউদ্দিনে ধান কিনতে আসত।তখন তারা ধানের দাম আরো বেশী পেত। বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আমনে তাদের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৫শ' হেক্টর। অবশ্য আবাদ হয়েছে তার চেয়ে বেশি। হেক্টর প্রতি উৎপাদন ছিল ৬ মেট্রিক টনের কাছাকাছি।
 
গত রবি ও সোমবার বিকেলে উপজেলার গংগাপুর ও কুতুবা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে দেখা যায়, কৃষাণ-কিষাণী মিলে কেউ উঠানে ধান শুকচ্ছে। কেউ আর ধান সিদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। সব মিলেয়ে দম ফেলার সময় নেই তাদের। এ সময় গংগাপুর ও কুতুবা ইউনিয়নের সংযোগ সড়কের পাশের ক্ষেতে ধান সিদ্ধ করতে দেখা যায় এক কৃষক দম্পতিকে। পাশে বানানো হয়েছে ক্ষেতের মধ্যে একটি টং ঘর। সিদ্ধ ধান রাতে পাহারা দেওয়ার জন্য ওটা তারাই তৈরি করেন।
 
কুতুবা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আবু কালামের ছেলে আবু তাহের (৩২) জানায়, তিনি ৬৪ শতাংশ জমিতে ইরিধান রোপণ করেন। কর্তনের পর ২৫ মণ ধান পান। তিনি অবশ্য জানান, বৃষ্টি না পাইলে আরও বেশি ধান পাইতাম। তিনি জানান, ধানের বর্তমান বাজার দর সাড়ে ৭শ'-৮শ' টাকা পর্যন্ত। ধান সিদ্ধ করতে করতে তার স্ত্রী রুনা বেগম জানায়, স্বামী-স্ত্রী মিলে তারা ধান সিদ্ধ থেকে শুকানোর কাজ করবেন। তিনি জানান- প্রতি মণ ধান থেকে ২২ কেজি চাল পাওয়া যায়। চাল আর লাকড়ি ঘরে থাকলে আর কোন চিন্তা নেই। রসের অভাবে নতুন ধান দিয়ে পিঠে পায়েস খাওয়া দুষ্কর এমন বক্তব্য তার। কৃষক খোরশেদ জানান, ১০৪ শতাংশ জমিতে ধান করে ৩৯ মণ ধান তিনি পেয়েছেন। পৌর সভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক নবীন তালুকদার জানান, ভোলা-বরিশাল ব্রিজটি হলে বরিশালসহ অনেক এলাকার ক্রেতা আসত ধান কিনতে। তখন ধানের মূল্য আরো বাড়তো।
 
ইত্তেফাক/জামান