সুস্থ জাতি গড়বে সুস্থ দেশ, এই লক্ষ্যেই কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইউনিভার্সাল হেল্প হাব (ইউএইচএইচ) । শরিয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার চর মনপুরা গ্রামে এবার দিনব্যাপী ফি মেডিকেল ক্যাম্প করলো সংগঠনটি।
‘হেলদি ন্যাশন’ শিরোনামের ধারাবাহিক ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে গত ৫ জানুয়ারি (শুক্রবার) খুনের চর প্রাথমিক স্কুল প্রাঙ্গণে ইউএইচএইচ দিনব্যাপী এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে। ইউএইচএইচ এর ষষ্ঠ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ছিল এটি। আগের পাঁচটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় ৬০০০ প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত রোগীদেরকে বিনামূল্যে প্রেসক্রিপশন প্রদানের সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করে। এবারের দিনব্যাপী ক্যাম্পে ৬ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে বিনামূল্যে ৫৬৭ জন রোগীকে বিনামূল্যে প্রেসক্রিপশন ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করে।
দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ডিএমসি, আসিয়ান মেডিকেল কলেজ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাক বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। ক্যাম্পে উপস্থিত ইউএইচএইচ এর উপদেষ্টা জনাব ওমর ফারুক তরুণদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁর আশা এ তরুণরাই ইতিবাচক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।
IMG0
ক্যাম্পে সেবাদানকারী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. হাসিবুল ইসলাম নাহিদ বলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের জন্য ইউএইচএইচ এ ধরণের ধারাবাহিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। ইউএইচএইচ-এর দেখাদেখি যদি অন্যান্য সংগঠনগুলো এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে তবে আমরা সুস্থ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে যাব।
ইউএইচএইচ এর অর্থ সম্পাদক ও বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর শেষ বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জামিল বলেন, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের সর্বাগ্রে সুস্থ মানুষ দরকার। ইউএইচএইচ তার জায়গা থেকে ঠিক এই কাজটিই করে যাচ্ছে।
ইউএইচএইচ এর সভাপতি মু. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ইউএইচএইচ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী পাঁচ বছরে পঞ্চাশ হাজার প্রান্তিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী যে ‘হেলদি ন্যাশন’ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, চর মনপুরার আয়োজনটি ছিল তারই ধারাবাহিকতা । এ কাজকে আরো এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
ইত্তেফাক/আনিসুর
