বেতাগীতে রাতের আঁধারে ঘুমন্তাবস্থায় ৬ জনকে কুপিয়ে জখম, ঘর দখল ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত খলিলুর রহমান ও জালাল মাতুব্বরকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যরা বেতাগী ও বরগুনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার মোকামিয়া বাজারের বেতাগী-বরগুনা সড়কের পশ্চিম পাশে আর.এস.এস.এস. রেকর্ডীয় সুত্রে ১২ শতাংশ জমির মালিক রহম আলী। তার মৃত্যুতে মেয়ে করুনা গ্রামের বাসিন্দা কুট্টি মাতুব্বরের স্ত্রী মোসা: হালিমা বেগম ওয়ারিশ সূত্রে ওই বাড়িতে প্রায় ৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। কুট্টি মাতুব্বরের পরিবারের সাথে একই এলাকার মো: শাহ আলম হাওলাদার গংদের দীর্ঘদিন যাবত ওই জমি নিয়ে বিরোধ। এ নিয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠক হলেও অদ্যাবধী কোনো সুষ্ঠু সমাধানে পৌছায়নি।
সোমবার রাত দুইটার দিকে মো: শাহআলম, মো: সোহরাব মোল্লা, আব্দুল জলিল, আবুল কালাম, মো: শাহীন, আব্দুস সালাম, হোচেন আলী ও মো: সোহেলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল জোরপূর্বক বসত বাড়িতে প্রবেশ করে অতর্কিত কায়দায় ঘুমন্তাবস্থায় তাদের ওপড় চড়াও হয়।
কুট্টি মাতুব্বর অভিযোগ করেন, ধারালো রামদা ও বগি দাও দিয়ে জালাল মাতুব্বর (৫০), খলিলুর রহমান (৩০), মো: মিলন (২৫),স্ত্রী মোসা: হালিমা বেগম (৮৭), বউ রেমিজা আক্তার (৩৫) ও মেয়ে রেহেনা বেগম (২৭) কে কুপিয়ে আহত করে। এতে তাদের মাথা, হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। এ সময় তারা বসত ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর ও ঘরটি দখলে নেয়।
এ বিষয় স্থানীয়রা বেতাগী থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পুনরায় তারা এসে লুটপাট চালিয়ে ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও ঘর দখলে নেয়।
বেতাগী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: হুমায়ূন কবির জানান, থানা থেকে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
