“বাংলাদেশ সবুজ প্রবৃদ্ধি সম্পর্কিত নীতি নির্ধারণে সবল কিন্তু বাস্তবায়নে দুর্বল” বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর প্রফেসর ড. আতিউর রহমান। আজ ৯ জানুয়ারি রাজধানীর ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়েরর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক ‘গবেষণা-৪’ সম্মেলনে সবুজ প্রবৃদ্ধি বিষয়ক এক অধিবেশনের সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
ড. আতিউর আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও নিজের সম্পদ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। তিনি পরামর্শ দেন, গবেষকরা যেন বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া সবুজ প্রকল্প সমূহের মূল্যায়ন করেন এবং বাংলাদেশের সবুজ ভাবমূর্তি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে দৃঢ়তার সাথে সবুজ অর্থায়নের নীতি গ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক সারা বিশ্বেই সুনাম কুড়িয়েছে। টেকসই অর্থায়ন বিভাগ স্থাপন করে বাংলাদেশ ব্যাংক সবুজ অর্থায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছে। নিজের ছাদের ওপর সবচেয়ে বড় সোলার প্যানেল স্থাপন করা ছাড়াও সকল ব্যাংককে পরিবেশ ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ৫০৩টি শাখা ও এটিএম বুথ সোলার বিদ্যুতে চলে। তাছাড়া, ইডকলের মাধ্যমে ৪৫ লাখ বাড়িতে দুই কোটি মানুষ সোলার বিদ্যুৎ দিয়ে আলো জ্বালাচ্ছেন। এছাড়া সরিষাবাড়িতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে ১১ হাজার সোলার প্যানেলের একটি প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রীডে দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের আরও পাঁচটি প্রকল্প এ বছরই চালু হবে। তখন এসব সোলার প্রকল্প থেকে ৩২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হবে। নগরের মানুষেরাও যেন তাদের বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুত উৎপাদন করে ইউনিট প্রতি তার কেনা দামের চেয়ে বেশি দামে জাতীয় গ্রীডে সেই বিদ্যুৎ দিতে পারেন সে রকমের নেট-মিটার প্রথা চালু করার জন্য তিনি সরকারকে পরামর্শ দেন। “আখেরে নীতিনির্ধারকদের মনের সবুজায়ন ঘটলেই সবুজ প্রবৃদ্ধির পালে হাওয়া লাগবে” বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
