সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে মাদকের সিন্ডিকেট

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:০৭

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পার্শ্ববর্তী এ উদ্যানের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে মানুষের জটলা। কিছু দূর এগিয়ে যেতেই দেখা গেল একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আগুন পোহাচ্ছে নানা বয়সী তরুণ-তরুণী। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, শীতের কনকনে ঠান্ডা থেকে বাঁচতে আগুনের তাপ নিয়ে শরীর গরম করছেন তারা। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখা গেল ভিন্ন দৃশ্য। উদ্যান জুড়ে সারি সারি বৃক্ষের মাঝে কাঠ দিয়ে আগুন পোহানোর ভান করে চলে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন। গত সোমবার বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। প্রকাশ্যে মাদক সেবনের এ চিত্র হরহামেশা হলেও পুলিশ নীরব।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে মাদক নিয়ন্ত্রণ করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট উদ্যানসহ আশপাশ এলাকায় গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদক জোগান দেয়। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ওই চক্র মাদকের ব্যবসা করছে বলে জানা গেছে। রাজধানীর প্রাণ কেন্দ্র এ এলাকার পাশেই কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ অবস্থিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-টিএসসি এলাকায় সক্রিয় ওই সিন্ডিকেট ।

জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা সেবন করতে আসা তরুণ-তরুণীদের অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। হাতের নাগালে সস্তায় পাওয়ায় দিন দিন গাঁজা সেবনে আসক্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ওই এলাকায় শুধু গাঁজা নয়, ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক সেবনও চোখে পড়ে। মাদক সেবন করেই এরা ক্ষান্ত নয়। নানা ধরনের সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে এ সব তরুণ-তরুণী। ফটকের বাইরে পুলিশ অবস্থান করলেও ভেতরে প্রবেশ করে কোনো অভিযান চালায় না তারা। এখানকার গাঁজার আসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক পর্যন্ত যোগ দেন বলে জানা গেছে।

গত সোমবার মাদক সেবনের ছবি তুললে ইত্তেফাকের আলোকচিত্রীর প্রতি ক্ষেপে যায় মাদকসেবীরা। একপর্যায়ে ছবি মুছে দেওয়ার আশ্বস্ত করায় কথা বলতে রাজি হয় মাদকসেবীরা। লাবিব (ছদ্মনাম) নামের এক মাদকসেবী জানায়, সে রাজধানীর একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ বর্ষে পড়াশুনা করছে। কিভাবে মাদকের প্রতি আসক্ত জন্মেছে জানতে চাইলে এই মাদকসেবী জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই ও আপুদের সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে মাদকের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। ওই আড্ডায় নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করা হতো। ফলে একপর্যায়ে নিয়মিত মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়ে সে।

বিনথি (ছদ্মনাম) নামের এক মাদকসেবীও জানায় একই অনুভূতি। সে জানায়, হলের সিনিয়রদের সাথে নিয়মিত আড্ডা দেওয়ার একপর্যায়ে সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। অনেক বন্ধু-বান্ধবীও নিয়মিত আসে এখানে গাঁজা সেবন করতে। এই পথ থেকে বের হয়ে আসা খুব কঠিন। একবার কেউ এই পথে চলে আসলে মাদকাসক্ত জীবন থেকে বের হওয়া সম্ভব না।

সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন রোধে আইনগুলো নামেই। এ সব আইনের প্রয়োগ না থাকায় যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মাদকের এই বিস্তার এখনই রোধ করতে না পারলে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম মেধাহীন হয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ওসি হাসান ইত্তেফাক’কে বলেন, মাদক সেবন রোধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ৮ ডিসেম্বরও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওই রকম প্রকাশ্যে কেউ গাঁজা সেবন করে না। তারপরও আপনাদের চোখে পড়লে পুলিশকে অবহিত করবেন। আমরা তাত্ক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করব।

ইত্তেফাক/নূহু