সারিয়াকান্দিতে প্রমত্তা যমুনা নদীর দেড় কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ বাঁধ ধসে যাওয়া এবং কাজে শ্লথগতির কারণে নদী ভাঙনে জানমালের ক্ষতির আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছে যমুনা পাড়ের মানুষ। নদী শাসনে অনভিজ্ঞ একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা ও কাজের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দুই বছর সময়সীমার মধ্যে ছয় কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ কাজ করার কথা থাকলেও দেড় বছরে দুই কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তীর সংরক্ষণ কাজের দুই কিলোমিটার ব্লক পিসিং সম্পন্ন হলেও ওই কাজে শতভাগ ব্লক এবং বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং হয়নি।
রৌহাদহ গ্রামের নিহার খান ও আজাহার আলী মণ্ডল বলেন, কাজের কোনো গতি নেই। ডিজাইন অনুযায়ী নদীর যে গভীরতায় সিসি ব্লক ও বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার কথা ছিল সেভাবে ডাম্পিং হয়নি। মাঝে মাঝে ব্লক ও বস্তা হিপ হয়ে আছে। তা ছাড়া ছেঁড়া ফাটা জিও ব্যাগ ব্যবহার করায় ভাঙন রোধ হচ্ছে না বলে তীর রক্ষা কাজ ধসে গেছে।
উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলতে বলেন।
পাউবোর বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, যমুনার বিভিন্ন চ্যানেলের পানি রৌহাদহ পয়েন্টে একটি চ্যানেল দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তীর সংরক্ষণ কাজের ওপর বেশি চাপ পড়ে।
তা ছাড়া বন্যার সময় তীর রক্ষা কাজ ডুবে গিয়েছিল। পানি নেমে যাওয়ার সময় ওই কাজ ধসে যায়। নতুন ডিজাইন আসলে সংস্কার করা হবে। তিনি আরো বলেন, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই প্রকল্প কাজ সম্পন্ন হবে।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, জনপদ এবং বোর্ডের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু
