দেশের উন্নয়নের চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে উন্নয়ন মেলা। তিন দিনব্যাপী চলা এই মেলার আয়োজন করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। রাজধানীর সেগুনবাগিচার শিল্পকলা একাডেমীতে শুরু হতে যাওয়া এই মেলা চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।
আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে শিল্পকলা একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
জেলা প্রশাসক বলেন, মেলায় ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গঠনে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা হবে। ‘উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে তিন দিনব্যাপী মেলা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাজ কল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সেখানে উপস্থিত থাকবেন। ওই দিন সকাল আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত অফিসার্স ক্লাব থেকে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত একটি র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন বলেন, উন্নয়ন মেলায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসার অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পৃথক পৃথক স্টল থাকবে। এ মেলায় ৯০টির বেশি স্টল তৈরি করা হয়েছে। সব সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে মেলায় আগত লোকদের সামনে তাদের নিজ নিজ সংস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। সরকারি সংস্থাগুলোর সেবাসমূহ মেলা থেকে সরাসরি দেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, গত ১৩ বছরের অগ্রগতি ও উন্নয়নের চিত্র এতে তুলে ধরা হবে। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশের উন্নয়ন হয়েছে অনেক। সবাই এই উন্নয়নের অংশ। এই অর্জন সবার। এই উন্নয়নকে তুলে ধরতে আয়োজন করা হচ্ছে উন্নয়ন মেলা।
তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলায় আলোচনা সভা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হবে। দেশবরেণ্য শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করবে। মেলা চলাকালীন প্রতিদিন বিকালে আয়োজন করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক কুইজ, আলোচনা, বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতা।
ঢাকার জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনারবাংলা গড়ে তোলার লক্ষে ১০টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণার মাধ্যমে দেশকে সামনে দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রায়ন প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি, সবার জন্য বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ মেলায় বিশেষগুলোর উপরে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
ইত্তেফাক/কেকে
