সোমেশ্বরীর ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে দুর্গাপুর

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৮, ০৩:১৫

নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুর কয়লা, সাদামাটি ও বালুর জন্য খ্যাত। পর্যটন শিল্পের জন্যও সম্ভাবনাময়। কিন্তু এরই মধ্যে খরস্রোতা সোমেশ্বরীর ভাঙনের কবলে পড়ে এখানকার শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিজয়পুর-ডাকুমারা সড়ক। হুমকির মুখে রয়েছে আরো অনেক এলাকা। ইতোমধ্যে কুল্লাগড়া ইউনিয়নের শিবগঞ্জ, ডাকুমারা, বিজয়পুর এবং দুর্গাপুর পৌর এলাকার অনেক জায়গা সোমেশ্বরীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া প্রতিবছরই বর্ষায় নদীভাঙনে ছোট হয়ে আসছে দুর্গাপুর।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, নদী ভাঙনের কবল থেকে সড়ক রক্ষার জন্য নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০০৮-৯  অর্থবছরে শিবগঞ্জ এবং ডাকুমারা এলাকার কিছু অংশ পাকা ব্লক দিয়ে বাঁধ দিলেও বছর যেতে না যেতেই ব্লকগুলো ধসে পড়ে এবং ভাঙন অব্যাহত থাকে। এরপর আর সড়ক রক্ষার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ওই সমস্ত এলাকার শত শত বাড়িঘর এখন সোমেশ্বরীর ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। যেকোনো সময় আরো বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানান, বর্ষাকাল এলেই নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়।

দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী তীরবর্তী কুল্লাগড়া, ডাকুমারা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও ডাকুমারা বাজারের অনেক অংশ ভেঙে গেছে। শিবগঞ্জ বাজার থেকে কুল্লাগড়া পর্যন্ত রাস্তারও বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, কখন যে নদীভাঙন শুরু হয়, হারাতে হয় বাড়িঘর-বসতভিটা, সারারাত তারা এ আতঙ্কে থাকেন। প্রতিবছর যে হারে এই ইউনিয়নের সড়ক, বাড়িঘর সোমেশ্বরীগর্ভে যাচ্ছে, তাতে এক সময় হয়তো শিবগঞ্জ বাজার এবং ডাকুমারা সড়কের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। এরই মধ্যে সড়কের অনেক অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

দুর্গাপুরের বিজয়পুর গ্রামের অবনী কান্ত হাজং বলেন, ‘আমাদের এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। ফলে এখানে অনায়াসে গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু সোমেশ্বরীর ভাঙনে দুর্গাপুর ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সড়ক, বাড়িঘর এবং আবাদি-অনাবাদি জমি।’

দুর্গাপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা মানবাধিকার কর্মী ধনেশ পত্রনবীশ বলেন, ‘সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় দুর্গাপুরে উন্নয়ন তো হলোই না উল্টো এখন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।’

দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক খান বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাঁধটি পুনঃসংস্কার করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই।’

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ও ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর বাঁধ মেরামতের কাজ করা হবে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাস বলেন, ‘সোমেশ্বরীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। বিষয়টি সংসদেও উত্থাপন করব।’

ইত্তেফাক/নূহু