পেটে গজ, ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই : ২ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৪৭
 
নড়াইলে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অবহেলা এবং পেটে গজ, ব্যান্ডেজ ও ছোট কাঁচি রেখে সেলাই দেয়ার অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 
 
গত বুধবার রাতে ভুক্তভোগি শারমিন আক্তারের বাবা মনির মোল্যা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন নড়াইল শহরের বেসরকারি ফ্যামিলি কেয়ার হাসপাতালের (ক্লিনিক) পরিচালক ডা. মো. মুকুল হোসেন ও নড়াইল সদর হাসপাতালের জুনিয়র সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. নুরুজ্জামান। 
 
মামলার বিবরণে জানা গেছে, সদর উপজেলার ধোন্দা গ্রামের মো. মনির মোল্যার কন্যা, মাগুরার শালিখা উপজেলার খাটোর গ্রামের মাসুদ মিয়ার স্ত্রীর ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই নড়াইল শহরের ফ্যামিলি কেয়ার ক্লিনিকে ৮ হাজার টাকার চুক্তিতে সিজারিয়ান অপারেশন করে এক পুত্র সন্তান ভুমিষ্ট হয়। ক্লিনিক পরিচালক ডা. মো. মুকুল হোসেন এবং ডা. নুরুজ্জামান এ অপারেশন সম্পন্ন করেন। দশ দিন যেতে না যেতেই অস্ত্রোপচারের জায়গায় ইনফেকশন হয় এবং ফুলতে শুরু করে। পরে ফ্যামিলি কেয়ারে বেশ কয়েকবার গিয়ে কোনো উপকার হয়নি। একপর্যায়ে এ বছরের ২ জানুয়ারি যশোরের কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে কর্তব্যরত গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রীনা বোসের পরামর্শ অনুযায়ী আলট্রাসনোগ্রাম করলে ডা. হাসিনা আক্তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন, পেটের মধ্যে ফরেনবডি পরিলক্ষিত হচ্ছে। পরে যশোর সদর হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ  ডা. রীনা বোসসহ তিনজন চিকিৎসক ৩ দফা অপারেশন করে পেট থেকে গজ, ব্যান্ডেজ ও ছোট কাঁচি বের করে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছে। 
 
এ বিষয়ে সদর থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি