রাজধানীতে ইয়াবার নতুন ক্রেতা সংগ্রহে রয়েছে ‘ম্যানেজ কর্মী’

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৫৭
রাজধানীতে শুধু ইয়াবা বিক্রি নয়, নতুন নতুন ক্রেতা সংগ্রহে রয়েছে কয়েক’শ ‘ম্যানেজ কর্মী’। যারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তরুণী তরুণীদের ম্যানেজ করে ইয়াবা সেবনে উৎসাহিত করে থাকে। এসব ম্যানেজ কর্মীদের সংগ্রহের (নতুন ইয়াবা সেবী) ওপর কমিশন দেয়া হয়ে থাকে। ইয়াবা সেবনে নতুন যারা আকৃষ্ট হয় তাদের কাছ থেকে ভাল দামও পাওয়া যায়। এ তথ্য জানিয়েছেন সম্প্রতি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর টিমের হাতে গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ী মোছাম্মদ মিনারা ওরফে শাহনাজ বেগম ওরফে শাহীনুর বেগম ওরফে মোছাম্মদ দিনারা ( ৪২)। রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকার রেলবস্তিতে বেড়ে ওঠা মিনারা গত ২০ বছর ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে অর্ধশত বার। তবে অধিকাংশ সময় পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে ছাড়া পেয়েছে। তার বিরুদ্ধে শুধু  নিউমার্কেট থানায় রয়েছে ১৭টি মামলা। কিস্তু সর্বশেষ ইয়াবাসহ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের টিমের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় আদালতে চার্জসিট প্রদান করা হয়েছে। 
 
গ্রেফতার হওয়ার পর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চল (উত্তর) তদন্ত টিম তাকে রিমান্ডে এনে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে মিনারা জানিয়েছেন, তার অতীত, বর্তমান। ভয়াবহ জেনেও কেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে তার আদ্যপান্ত। মামলার এজাহারে গ্রামের ঠিকানা দেয়া হয়েছে শরিয়তপুর জেলার গুচ্ছগ্রাম কামার দা। স্বামীর নাম বাবু ওরফে মোবাইল বাবু ওরফে বাবুল সরকার ওরফে শহিদুল। বর্তমান ঠিকানা নীলক্ষেত বাবুপুরা ( বিসিএস কোয়ার্টার সামনের বস্তি)।
 
জিজ্ঞাসাবাদে মিনারা জানায়, তার জন্ম বেড়ে ওঠা কারওয়ান বাজার রেল বস্তি। এক সময় কারওয়ান বাজারে আড়ৎদারদের কাছ থেকে ফেলে দেয়া তরকারী সংগ্রহ করে বিক্রি করে পরিবারকে সহায়তা করতো। এ অবস্থায় মধ্যেই বিয়ে হয়। আর স্বামীর ইন্ধনে এক সময় জড়িয়ে পড়ে মাদক ব্যবসায়। শুরুতে রেললাইনের ধারে ফেনসিডিল, গাঁজার পুরিয়া বিক্রি করতো। পরবর্তীতে সব ছেড়ে ইয়াবা। তার কাজ ছিল ইয়াবা ‘বড় ব্যবসায়ীরা’ তাকে নির্ধারিত সংখ্যা ইয়াবা দিত। ওটা বিক্রির পর পেত কমিশন। এ অবস্থার মধ্যে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে পুলিশকে ম্যানেজ করে গ্রেফতার ও মামলা থেকে রেহাই পায়। আর ওই ঘটনার পর পুলিশের সাথে একটা ‘সমঝোতা’ হয়। ফলে বছর খানেক ভালই কাটছিল। কিন্তু ইয়াবা বিক্রি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে রেল বস্তি ছেড়ে বসবাস শুরু করে রামপুরায় ঝিলপাড় বস্তিতে। সেখানেও একই সমস্যা দেখা দেয়। ফলে আবারও স্থান পরিবর্তন করে কদমতলী এলাকায় বসবাস শুরু করে।
 
মিনারাকে গ্রেফতারে নেতৃদ্বদানকারী মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের (উত্তর) সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম বলেন, গ্রেফতারকৃত মিনারাই নীলক্ষেত এলাকার ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। দশটির অধিক নাম ব্যবহার করতো। তবে শেষটায় সে শিকার করেছে তার প্রকৃত নাম মোসাম্মদ মিনারা। তার অধীনে রয়েছে একটি বড় ইয়াবা সিন্ডিকেট। গত কয়েক মাস চেষ্টার পর মিনারাকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। তার বিরুদ্ধে শুধু নিউ মার্কেট থানায় ১৭টি মামলা রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণের অভাবে ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়া যাচ্ছিল না। সর্বশেষ ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের আলোকে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তার অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এমআই