পুঠিয়ার ফিরোজ রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:০৮
মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে রাজশাহীর পুঠিয়ার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আব্দুস সামাদ (মুসা) ওরফে ফিরোজ খাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত সংস্থা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 
 
তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, একাত্তরে রাজশাহীর পুঠিয়ার শান্তি কমিটির দাপুটে সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন বাঁশবাড়ি এলাকার মৃত আব্বাস আলীর ছেলে মো. আব্দুস সামাদ (মুসা) ওরফে ফিরোজ খাঁ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের আগে মুসলিম লীগের সমর্থক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে শান্তি কমিটির স্থানীয় নেতার নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পুঠিয়ার ভালুকগাছি ইউনিয়নের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের (মৃত) নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনীর হয়ে তিনি পুঠিয়া ও দুর্গাপুর এলাকায় এসব অপরাধ ঘটান। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় চার সাঁওতালসহ ১৫ জনকে হত্যা, ২১ জনকে নির্যাতন ছাড়াও অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। 
 
ফিরোজ খাঁর পূর্বপুরুষরা ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে আসা। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি সেখানে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানানো হয়। তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা সানাউল হক বলেন, ‘২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর মুসা ওরফে ফিরোজ খাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করা হয়। তদন্তে দেখা গেছে, আসামির বিরুদ্ধে একাত্তর সালে রাজশাহীর পুঠিয়া থানা ও দুর্গাপুর থানা এলাকায় ১৫ জনকে হত্যা, ২১ জনকে নির্যাতন, ৮-১০টি বাড়িঘর লুণ্ঠনসহ ৫০-৬০টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ মামলার তদন্ত শুরুর আগেই আরো পাঁচ অভিযুক্ত মারা গেছেন। আসামি আব্দুস সামাদ মুসা একাই বেঁচে আছেন। 
 
ইত্তেফাক/ইউবি