জনগণের সেবার জন্য রাজনীতির বিকল্প নেই: ড. শাহ নওয়াজ আলি

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:০৯
 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়েই কর্মজীবন শুরু। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়ে এগিয়ে গেছেন প্রফেসর ড. এম. শাহ নওয়াজ আলি। হয়েছেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান। দু’দফায় ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকটির রুগ্ন দশা থেকে তুলে এনেছেন শক্তিশালী অবস্থানে। 
 
দিনাজপুরের খাগড়াবন্দ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ড. এম. শাহ নওয়াজ আলি। তিনি মরহুম আবদুল হামিদ শাহের তৃতীয় ছেলে। ছোটবেলা থেকে উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের অধিকারী ছিলেন। ১৯৬৯ সালে রংপুরের বদরগঞ্জ মহাবিদ্যালয় থেকে আইকম পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় চতুর্থ স্থান লাভ করেন।
 
বর্তমানে শাহ নওয়াজ আলি দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য হিসেবে। তুখোড় মেধাবী এই ব্যক্তির আগামীর ইচ্ছা সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে দেশ ও দলের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া।
IMG0 
ব্যক্তিজীবনে সফল এই শিক্ষাবিদের সাথে আলাপচারিতায় জানা গেলো তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের খুঁটিনাটি। শাহ নওয়াজ আলির শৈশব-কৈশোর পার হয় পাকিস্তান আমলে। সেসময় স্কুলে পাকিস্তানের উর্দু জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া কোনভাবেই মানতে পারতেন না তিনি। এর পরিবর্তন হওয়া অপরিহার্য—এমন ধ্যান ধারণা নিয়েই শুরু করেছিলেন রাজনীতি। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও শিক্ষকতার সময়ও যুক্ত ছিলেন প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে। শিক্ষকতার সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির দুইবার নির্বাচিত সহসভাপতি, সদস্য, বিজনেস অনুষদের দুইবার ডিন, ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের নির্বাচিত আহবায়ক হিসেবে সফলভাবে পর পর দুইবার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিন্ডিকেট, সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
 
ধারাবাহিক সফলতায় হয়েছেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। দুই দফায় ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। ভাড়া ভবন থেকে নিজস্ব ৫ তলা বিশিষ্ট ভবনে স্থানান্তর করেছেন। ব্যাংকটির জন্য অর্গ্যানোগ্রাম তৈরি করেছেন। রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উপহার এবং শীতের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে যথাসাধ্য দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। অবহেলিত আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা জামানতে ৫-৬ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের চেতনা ধারণকারী শাহ নওয়াজ আলি। 
IMG1
একজন  শিক্ষক হিসেবে নৈতিক জায়গা থেকে একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য যা যা করার দরকার তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন শাহ নওয়াজ আলি। নিজেকে সক্রিয়ভাবে প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে না পারলেও সবসময় মনেপ্রাণে তা লালন করেন তিনি। পেশাগত ব্যস্ততা ও রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব না করায় এলাকার মানুষের সেবার সুযোগ পেয়েছেন কম। তবে এর মধ্যেই এলাকার দুঃস্থ মানুষের সেবায় নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন তিনি। নিজ এলাকায় যে কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত থেকেছেন। মেডিকেল শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী এফসিপিএস প্রফেসর স্ত্রীকে রেখেছেন এলাকাতেই। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর এলাকায় থেকে মানুষের সেবা করে গেছেন।
 
আগাগোড়া দেশপ্রেমিক শাহ নওয়াজ আলি মনে করেন, আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্য। মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা না থাকলে হয়তো তিনি আজকের এই অবস্থানে নিজেকে আসীন দেখতে পারতেন না। তাই সাধারণ জনগণের সেবার জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিতে বিশ্বাস তার। 
IMG2
শাহ নওয়াজ আলি বলেন, ‘এ কথা সত্যি যে, এলাকার গণ মানুষের সেবার জন্য একটি মাত্র অমোঘ শক্তি হলো রাজনীতি। আমি শিক্ষকতা করেছি, একটি বিশেষ শ্রেণীর উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। কিন্তু আপামর জনগণের সেবার জন্য রাজনীতির বিকল্প নেই। আমি মনে করি, যদি রাজনীতিতে সক্রিয় অবস্থানে থাকতাম, তাহলে আপামর জনগণের সেবার সুযোগ হতো। সেই সুযোগের জন্য আমি মনে করি, আমার রাজনীতি করার একটি সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগটা শুধু আমি চাইলে তো হবে না! আমার এলাকার জনগণ যদি মনে করে যে, আমি তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি ও উপযুক্ত প্রতিনিধি। তারা যদি চায় তাহলে সেটা সম্ভব। আমি যেহেতু প্রগতিশীল রাজনীতির পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিবিদ হতে চাই। প্রগতিশীল রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি আওয়ামী লীগ যদি মনে করে আমাকে মনোনয়ন দেবে, অবশ্যই আমি চেষ্টা করবো দলের আস্থার প্রতিদান দিতে। আর আমাকে মনোনয়ন নাও দেওয়া হয়, তাতেও আমার অখুশি হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ আমি গণমানুষের সঙ্গে, গণমানুষের কল্যাণে একজন নিবেদিত মানুষ। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে না করে, তাতেও আমার কোন দুঃখ থাকবে না। আমার জায়গা থেকে আমি জনসেবায় নিয়োজিত থাকবো।
 
তার কাছে দেশের উন্নতির জন্য মূল চাবিকাঠি হলো শিক্ষা। এবং তিনি সুযোগ পেলে প্রথম কাজ হবে শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধন করা। তিনি বলেন, ‘দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করার জন্য এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসম্মত সুশিক্ষা সুনিশ্চিত করার জন্য আমার ভাবনা রয়েছে। শিক্ষা এবং গণতন্ত্রের মাধ্যমে যে কোন দেশ দ্রুত এগিয়ে যায়। আর শিক্ষা থাকলে সমাজ আপনাআপনিই গণতান্ত্রিক হয়ে যায়। শিক্ষা থাকলে মানুষের মানসিক বিকাশ ঘটে, মননশীলতা উন্নত হয়। শিক্ষা ছাড়া মানুষ সভ্য হতে পারেনা। আজ আমরা নিজেদেরকে সভ্য বলে দাবি করি, এটার মূল কারণ শিক্ষা। আমি মনে করি, সব উন্নতির মূল অনুঘটক শিক্ষা। তাই শিক্ষাকে উন্নত করতে দেশের সকল স্তরে শিক্ষা প্রসারে যত্নবান হতে হবে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর