পাবনায় স্মরণসভায় বিশিষ্টজনরা

‘সুচিত্রা সেনকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গবেষণার দরকার’

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৪৮
‘মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের জন্ম পাবনায়। এটা পাবনাবাসীর জন্য গর্বের। সুচিত্রা সেনের চরিত্র ধারণ ও অনুসরণ করলে আগামীতে পাবনা থেকে আরো সুচিত্রা সেন বেরিয়ে আসতে পারে। সুচিত্রা সেনকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে তুলে ধরতে প্রয়োজন আরো গবেষণার।’
 
বুধবার সকাল ১১টায় মহানায়িকার স্মৃতি বিজড়িত শৈশবের বিদ্যাপিঠ পাবনা টাউন গালর্স হাইস্কুল প্রাঙ্গণে বাংলা চলচ্চি্েত্রর কিংবদন্তি নায়িকা  পাবনার মেয়ে সুচিত্রা সেনের প্রয়াণ দিবসে  অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় এ মত ব্যক্ত করেন বিশিষ্টজনেরা। 
 
দুই বাংলার মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের চতুর্থ প্রয়াণ দিবস পালনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তার জন্মস্থান পাবনায় স্মরণসভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ। স্মরণসভার শুরুতে সুচিত্রা সেনের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন অতিথিরা।
 
পরে স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, বাংলা চলচ্চিত্র এখনও নির্মাণ হয়, মানুষ সিনেমা দেখে। কিন্তু উত্তম-সুচিত্রার মত অভিনয় আর দেখা যায়না। তাই সুচিত্রা সেনের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, ছবি, তার অভিনীত সিনেমা সব সংগ্রহ করতে হবে। তার জীবনি নিয়ে তথ্য সমৃদ্ধ বই বের করা গেলে উপকার পাওয়া যাবে।
 
বক্তারা বলেন, সুচিত্রা সেনের বাড়ি নিয়ে আর্কাইভ গড়ে তুলতে পাবনাবাসীর যে প্রত্যাশা তা এখনও পূরণ হয়নি। সংক্ষিপ্ত পরিসরে নামমাত্র সংগ্রহশালা করা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে দুর দুরান্ত থেকে দর্শনার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা বাড়িটি দেখতে এসে হতাশ হচ্ছেন। বাড়িটিতে পূর্ণাঙ্গ সুচিত্রা সেন স্মৃতি আর্কাইভ করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। 
 
জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কাজী আতিউর রহমান, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক শিবজিত নাগ, জেলা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আব্দুল মতীন খান। জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মারুফা মঞ্জুরী খান সৌমির সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন, সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সহ-সভাপতি ডা. রামদুলাল ভৌমিক। অনুষ্ঠানে সুচিত্রা সেন অভিনীত চলচ্চিত্রের গান পরিবেশন করেন জেলার সাংস্কৃতিক শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, জেলার প্রতি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একদিন সুচিত্রা সেনের বাড়িটি পরিদর্শন করানো ও তাদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। তারা কী দেখলো, কী জানলো তা নিয়ে হবে এই প্রতিযোগিতা। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন তাদের সহায়তা করবে।
 
প্রসংগত, পাবনা শহরের দিলালপুর মহল্লার পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন  পুরাতন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উত্তরে পৈত্রিক বাড়িতে কেটেছে সুচিত্রা সেনের শৈশব ও কৈশরের দিন গুলো। সুচিত্রাসেন পাবনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন পাবনা মিউনিসিপ্যালিটির স্যানিটারি ইনস্পেক্টর। পরে কর্ম-যোগ্যতায় পদোন্নতি পেয়েছিলেন হেড ক্লার্ক হিসাবে। দেশ ভাগের সময় বাড়ি ঘর ফেলে সুচিত্রা সেনের বাবা স্বপরিবারে ভারতে চলে যান। 
 
ইত্তেফাক/এমআই