ঢাবিতে প্রক্টর ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৪৭
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলনে ছাত্রলীগ কর্তৃক আন্দোলনরত ছাত্রদের মারধর ও যৌন হয়রানির বিচার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে দীর্ঘ সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম সংগঠনসহ সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা।
 
তিন দফা দাবিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। দাবিগুলো হলো- চিহ্নিত যৌন নিপীড়কদের বিশ্ববিদ্যালয় হতে সাময়িক বহিষ্কার করা, ২৪ ঘটনার মধ্যে তদন্ত কমিটি করা এবং তাতে ছাত্রপ্রতিনিধি রাখা এবং ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি ফল প্রকাশ করা ও দোষীদের বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্থায়ী বহিষ্কার করা। দাবি আদায় না হলে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবিতে তারা আবার আন্দোলন করবে বলে হুশিয়ারি প্রদান করে। 
 
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা ভিসি কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদেরকে প্রতিহত করতে ছাত্রলীগ ডেকে আনে বলে অভিযোগ উঠে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এসে কিছু আন্দোলনরতদের মারধর এবং আন্দোলন ছাত্রীদের ঘিরে ধরে শ্লীলতাহানী করে। 
IMG0
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা যৌন নিপীড়নের বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ হতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। এসময় বিক্ষুব্ধরা কলাভবনের প্রক্টর কার্যালয়ের সামনের লোহার ফটক বন্ধ পেয়ে ভাঙচুর করে। ততক্ষণাৎ প্রক্টর গোলাম রব্বানী এসে তাদের বক্তব্য শোনেন। এসময় আন্দোলনরতরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থাকতে কেনো সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা এসে আন্দোলনরতদের মারধর এবং যৌন নিপীড়ন করে তার জবাব চান। তারা গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া যৌন নিপীড়কদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারের দাবি জানান। 
 
প্রক্টর বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রক্টর আলোচনায় বসে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বস দেন। কিন্তু বিক্ষুব্ধরা এতে রাজী হয়নি। তারা প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিসহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পরে প্রক্টর তার কক্ষে চলে গেলে বিক্ষুব্ধরা প্রক্টর অফিসের সামনে বসে পড়েন। প্রক্টর দুপুর আড়াইটার দিকে তার কক্ষ থেকে বের হলে বিক্ষুব্ধরা আবার তাকে ঘিরে ধরে। এসময় তারা বিচার না করে প্রক্টর কোথাও যেতে পারবে না বলে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। দুই ঘণ্টা প্রক্টর আন্দোলনরতদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে তিনি বিক্ষুব্ধদের নিয়ে ভিসি কার্যালয়ে যান। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বিক্ষুব্ধদের বক্তব্য শোনেন এবং লিখিত অভিযোগ দেয়ার আহ্বান জানান। উপাচার্য ২৪ ঘণ্টার ভেতরে তদন্ত কমিটি করে আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধরা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্লোগান দিতে দিতে ভিসি কার্যালয় ত্যাগ করেন।
 
ইত্তেফাক/এমআই