গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের এক শিশুকে (১৪) তুলে নিয়ে গিয়ে বুধবার রাতে ফরিদপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় শিশুটি ও তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ওই শিশুটি জানায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের গোয়ালটিলা ফেদু মাতুব্বার পাড়ার শুকুর আলীর ছেলে আনিসের সাথে কয়েক মাস ধরে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। আনিস ঢাকার একটি পোশাকের দোকানে কাজ করে। বুধবার সন্ধ্যার দিকে আনিস দেখা করতে চায় বলে তার বন্ধু রাসেল সিকদার (২৫) শিশুটিকে ফোন করে। প্রথমে আপত্তি জানালেও পরে রাজি হয়। রাসেল বাড়ির অদূরে বেড়িবাঁধে অপেক্ষা করছে বলে জানায়। শিশুটি বেড়িবাঁধে যায়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে তুলে তাকে ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর এলাকার একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আনিসকে দেখতে না পেয়ে শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে সেখানে আগে থাকা আরেক যুবক ও রাসেল তাকে চাকু দিয়ে মুখ চেপে ধরে।
এক পর্যায়ে তাকে দুইজনে ধর্ষণ শেষে তার মোবাইল ফোনটি রেখে এ কথা কাউকে জানালে খুন করার হুমকি দেয় এবং তাকে বাড়ি চলে যেতে বলে।
শিশুটির মা বলেন, আমরা গরীব মানুষ বলে কার কাছে বিচার চামু। আমার মাইয়াকে যারা সর্বনাশ করেছে আল্লাই তাদের বিচার করবো। গ্রামে জানাজানি হওয়ায় অহন আমি এ মাইয়ারে নিয়া কই যামু।
অভিযুক্ত ফরিদপুরের দুর্গাপুর সিকদার ডাঙ্গীর মাইনদ্দিন সিকদারের ছেলে রাসেল সিকদার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানের ব্যস্ত ছিলাম। আনিস ও ওই মেয়ের প্রেমের সর্ম্পকে জানলেও ধর্ষণের বিষয়টি আমাদের জানা নেই।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মির্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে আইন অনুযায়ী ঘটনাস্থল ফরিদপুরে হওয়ায় তাদেরকে সংশ্লিষ্ট ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
