ফুল চাষের আয়ে পড়ালেখা করছে ২ ভাই

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:১৯
 
রায়হান ও আকিব হোসেন দুইভাই। দুইজনই দশম শ্রেণিতে লেখা-পড়া করে। বাবার অবর্তমানে দুই ভাই সংসারের হাল ধরে। পড়া-লেখার পাশাপাশি বাবার রেখে যাওয়া ‘কুঞ্জের হাট আদর্শ নার্সারির’ উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে তারা। নার্সারিতে তারা বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করছে। গোটা দক্ষিণঅঞ্চলের ক্রেতারা তাদের উৎপাদিত ফুল কিনেন। আর এই আয় দিয়েই তাদের জীবন চলে।
 
তারা জানান, তার বাবা কাঞ্চন মহাজন বিশ বছর আগে ১৫২ শতাংশ জমির উপর ‘কুঞ্চের হাট আদর্শ নার্সারিটি প্রতিষ্ঠিত করেন। এতে বিভিন্ন ধরনের ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা উৎপাদন করতেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিক্রেতারা এখান থেকে চারা কিনতেন।
 
২০১৭ সালে এপ্রিল মাসে বাবা পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।এরপর সংসারসহ নার্সারির দায়িত্ব নেন দুই ভাই। তাদের পরিকল্পনায় নতুন সংযোজন হয় বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ। ফুল চাষ করে কম সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় তারা এ কাজ শুরু করেন। তাদের উৎপাদিত ফুল বর্তমানে পুরো জেলায় সরবরাহসহ বরিশাল থেকে আগত ক্রেতারা কিনছেন।
 
তারা জানায়, তাদের নার্সারিতে গ্লাডিওলাস, ইন্ডিয়ান জবা, ইন্ডিয়ান বেলি, গাঁদা, গোলাপ, বেলী, জুঁই ,চামেলী, রজনীগন্ধা, ঝুমকা, ডালিয়া, হাসনাহেনা, টগর, গেটফুল, জবাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ করা হয়। সারা বছরই ফুলের চাষ করেন তারা। ফুল ছাড়াও ওই নার্সারিতে বিভিন্ন ধরনের ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা উৎপাদন করা হয়। নার্সারি থেকে অর্জিত আয়ে কলেজ পড়ুয়া বোনসহ তাদের লেখা-পড়া ও সংসার খরচ চলছে। প্রতিটি গাঁদা ফুলের চারা ৫০ টাকায় বিক্রয় হয়।দৈনিক গড়ে পাঁচ হাজার টাকা তারা আয় করে। জেলার মধ্যে চরফ্যাশন উপজেলার ক্রেতার সংখ্যা বেশি। 
 
লেখা-পড়া সমস্যা হয় কিনা এমন প্রশ্নে তারা জানান, কাজ করার লোক আছে। স্কুলে যাবার আগে তাদেরকে কাজ বুজিয়ে দেয়া হয়। স্কুল থেকে এসে আবার নার্সারির পরিচর্যা শুরু হয়। অনেক সময় আবার স্কুল কামাই দিতে হয়। এর ওপর ভিক্তি করে ভালো করে লেখা-পড়া চালিয়ে তারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়।
 
রাকিবের স্কুল ডিটিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব কাজী জানান, ওরা খুবই পরিশ্রমী। পড়া-লেখায়ও ভালো। নার্সারির আয় দিয়ে তারা লেখা-পড়া করে। পড়া লেখায় আমরা তাকে সহযোগীতা করছি।
 
ইত্তেফাক/কেকে