‘টিভি মিডিয়া এখন অতিবাণিজ্যিক এজেন্সী ও বিপণন কর্মীদের কাছে জিম্মি’

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:০২
দীর্ঘ প্রায় অর্ধযুগ ধরে আছেন টেলিভিশন মাধ্যমে তানভীর তন্ময়। এশিয়ান টেলিভিশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে বর্তমানে কর্মরত। এর বাইরে ব্যক্তিগত ভাবে তিনি দেশের একজন প্রখ্যাত ডিজে। প্রায় দেড়যুগেরও বেশি সময় ধরে এই পেশায় নিয়োজিত। চ্যানেলটি তাদের সফল যাত্রাপথে ৬ষ্ঠ বছরে পদার্পন করলো। বর্তমান টিভি মিডিয়ার ভবিষ্যত প্রসঙ্গে কথা বলেছেন ইত্তেফাকের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নুরুল করিম।
 
গণমাধ্যমে এখন টিভি মিডিয়ার দর্শক ক্রমাগতভাবে কমছে। দর্শকেরা বিভিন্ন ডিভাইসে এখন আকৃষ্ট হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে আপনার মতামত কী?
 
এটাকে অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। এটা ঠিক যে টিভি মিডিয়ায় ঘড়ির কাঁটা দেখে এখন আর কেউ অনুষ্ঠান দেখতে বসেন না। তবে অনুষ্ঠানটি যদি মানসম্মত হয় তাহলে কিন্তু ঐ দর্শকেরা অবশ্যই যে কোনো মাধ্যমেই হোক না কেন দেখতে বসে। তাই টিভি মাধ্যমকে আরো ভালেঅ কনটেন্ট দিতে হবে। 
 
নাটকে অতি মাত্রায় ভাড়ামিপূর্নতার অভিযোগ পাওয়া যায়, এক্ষেত্রে আপনার চ্যানেলেও একই অভিযোগ বিদ্যমান। আপনি আত্মপক্ষ সমর্থণ করে কি বলবেন?
 
নাটকের ক্রয়-বিক্রয় খুব নাজুক এক অবস্থানে রয়েছে। কারণ ভালো কোয়ালিটির নাটক এখন অধিকাংশ চ্যানেলে উৎসবের সময়কালে কিনে প্রচার করে চ্যানেলগুলো। কারণ অন্য সময় তা লাভজনক হয় না। এ ব্যর্থতা কিন্তু অনুষ্ঠানবিভাগের নয়। এ ব্যর্থতা টিভি চ্যানেলের ম্যানেজমেন্ট ও বিপনন কর্মকর্তাদের। তারা প্রডাক্টটাকে ব্র্যান্ডিং করতে পারেন না। সেÿেত্রে হয়তো এজেন্সীর টেবিলে পড়ে থাকা গৎবাধা নাটকগুলো প্রচার করতে বাধ্য হয় অনেকে। তবে এশিয়ান টেলিভিশন এ অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে।
 
এজেন্সীগুলো নাটকের তদারকি নেয়ায়, চ্যানেলগুলোর লাভ না ক্ষতি হলো?
 
লাভের প্রসঙ্গ তো আসছে না। প্রশ্ন হলো, আদৌ এটা এজেন্সির দায়িত্ব কি না। অথচ হাস্যকরভাবে অধিকাংশ চ্যানেলে বিজ্ঞাপনী এজেন্সীগুলো নাটক সরবারহ করছে। মিনিট শেয়ার’ নামের যে প্রক্রিয়া চালু হয়েছে, তাতে কিছু কমিশনভোগীরা লাভবান হচ্ছেন। বাকি টিভি চ্যানেল ও দর্শকগ্রহনযোগ্যতার বারোটা বাজছে। এত কিছুর পরে, পারিপার্শ্বিক চাপ নিয়েই অনুষ্ঠান নির্মান করতে হয় আমাদের। দেখা গেলো আমি একটি অনুষ্ঠানের কোনো মানসম্মন্ন অতিথি ঠিক করলাম। কিন্তু বিজ্ঞাপনী সংস্থার অপছন্দ বলে তাকে বাদ দেয়া হলো।  অধিকাংশ টিভি মিডিয়া এখন অতিবানিজ্যিক এজেন্সী ও বিপণণ কর্মীদের কাছে জিম্মি। 
 
IMG0
 
এশিয়ান টিভি নতুন বছরে কি ধরণের উদ্যোগ নিচ্ছে?
 
আমরা ডিজিটাল প্লাটফর্মে আরো সক্রিয় হবার চেষ্টা করছি। এর বাইরে আমাদের চ্যানেলের প্রধান উপদেষ্টা প্রখ্যাত অভিনেতা জাহিদ হাসান তার নিজস্ব পরিকল্পনা ও ভাবনা দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করছেন। নতুন বছরে তাই বেশ কিছু চমক দেখবেন দর্শকেরা। আমাদের প্রয়োজন এখন সঠিক সমন্বয়। সেই চেষ্টাই এখন করা হচ্ছে। দেখা যায় প্রগ্রাম বিভাগ হয়তো ভালো কোনো আইডিয়ার অনুষ্ঠান নির্মানে উদ্যোগ নিলো, কিন্তু বিপনন বিভাগ সেটি বানিজ্যিক সৌহার্দ্য পূর্ণ না বলে অনুষ্ঠানটির ভ্রæন তৈরি না হতেই বন্ধ করে দিলো। এই ধৈর্য্য ও প্যাশন এখনকার অনেক চ্যানেলেই নেই। এর বাইরে আমরা একটি ফেক টিআরপির ওপরে নির্ভরশীল। যা নিয়ে এর আগেও অনেক গুণী মানুষেরা আপত্তি তুলেছেন। নতুন বছরে আমরা এসবকিছু উৎরে নতুন করে শুরু করার পরিকল্পনা করছি।
 
আপনার দীর্ঘদিনের ডিজে পরিচয়টি কি চ্যানেল কর্তা হিসেবে ম্লান হয়ে যাচ্ছে?
 
না, সেটিকে আমি খুব ভালোভাবেই সমন্বয় করি সবসময়। গতবছরেও ৪ টি দেশে আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালে বাজালাম। দেশে এক্সক্লুসিভ শোগুলোতে বাজাচ্ছি। এছাড়া আমাদের এশিয়ান টিভির চেয়ারম্যান আলহাজ হারুনুর রশীদ স্যারও আমাকে আমার কাজে সহযোগিতা করেন। তিনিও প্রানান্তভাবে চ্যানেলটিকে একটি উৎকর্ষের জায়গায় প্রতিস্থাপন করতে চান। এশিয়ান টিভির প্রতি দর্শকদের ভালোবাসা আছে, সেটিকেই আমরা আরো দৃড় করবো নতুন বছরের যাত্রাপথে।
 
ইত্তেফাক/ রেজা