বদলিজনীত কারনে বিদায় নিচ্ছেন ইউএনও। আর এ বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনায় তিনি ঘোষণা দিলেন শিক্ষা ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার কথা। পাহাড়ি জনপদ মাটিরাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম মশিউর রহমান এমন একজন শিক্ষা অনুরাগী মানুষ!
গরীব, এতিম ও প্রতিবন্ধী অথচ মেধাবী এমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে লেখাপড়ায় উৎসাহিত করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মাটিরাঙা শিক্ষা ট্রাস্ট’। বুধবার নিজের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমন ঘোষণা দিয়ে উপস্থিত সকলকে চমকে দেন তিনি। শিক্ষা ট্রাস্টে রেখে যান নিজের সন্মানী থেকে পাওয়া দেড় লাখ টাকা।
২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর থেকে ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত জেএসসি, জেডিসি, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত সম্মানীর ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে ‘মাটিরাঙা শিক্ষা ট্রাস্ট’ তহবিলে জমা দেন তিনি।
মাটিরাঙা শিক্ষা ট্রাস্টকে নিজের সন্তানের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, চলে যাওয়ার সময় আমার সন্তান হিসেবে এ ট্রাস্ট রেখে গেলাম। আমি গর্বিত হব সেদিন যখন জানতে পারব আপনারা এ ট্রাস্ট রক্ষা করেছেন। এ ট্রাস্ট গরিব, এতিম ও প্রতিবন্ধী অথচ মেধাবী এমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে লেখাপড়ার পথকে সুগম করবে। ভবিষ্যতে যেখানে থাকেন না কেন এ ট্রাস্টের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার কথাও বলেন তিনি।
বিদায়ী অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম তাজু, মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শামছুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আলী, মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনর্চাজ সৈয়দ মো. জাকির হোসন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল হক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর মো. মোহতাসিম বিল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/নূহু
