রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংকট বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ব ব্যাংক। চলমান সংকট কমাতে রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরিভিত্তিতে আরো আর্থিক সহযোগিতা বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে এমনটি উল্লেখ করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সন। তিনি বলেছেন, কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তা করতে বিশ্ব ব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে।
গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কক্সবাজারের বালুখালী ও কুতুপালং এলাকায় রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করে অ্যানেট ডিক্সন বলেছেন, মিয়ানমারে সহিংসতায় প্রাণভয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পর সরকার ও স্থানীয় মানুষ যেভাবে আশ্রয় দিয়েছে, মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তাদেরকে আমরা সহযোগিতা করতে চাই।
তিনি আরো উল্লেখ করেন- যতদূর চোখ গেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য প্লাস্টিক ও কাঠের তৈরি আশ্রয় শিবির দেখেছি। আশ্রয় শিবিরের কারণে বন উজাড় হয়েছে। অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের চাপ পড়েছে। রোহিঙ্গাদের কারণে পানি ও পরিবেশের ওপর মারত্মক প্রভাব পড়েছে। সামনের বর্ষাকাল তাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জ হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হবে। একই সঙ্গে নানা ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব হবে।
অ্যানেট ডিক্সন নিবন্ধিত ও অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে কথা বলেছেন রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতিনিধি ও স্থানীয় মানুষদের সঙ্গেও। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধিত সেন্টার, স্বাস্থ্য ও খাদ্য বিতরণ সেন্টার, শিশু সেন্টার পরিদর্শন করেন। রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে তাদের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন অ্যানেট। তিনি বলেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা তাদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে; কিন্তু রোহিঙ্গাদের জন্য আরো বেশি করে সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার যদি সহযোগিতা চায়, তাহলে আমরা অর্থায়নের ব্যবস্থা করবো। সেটি যেমন হবে রোহিঙ্গাদের জন্য, তেমনি স্থানীয় সাধারণ মানুষের জন্যও। রোহিঙ্গারা চলে যাওয়ার পরও স্থানীয়দের জন্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানায় বিশ্ব ব্যাংক।
ইত্তেফাক/আনিসুর
